নিজস্ব প্রতিবেদক: রংপুরে দিন-দুপুরে ক্রোকারিজ মার্কেটে ঢুকে আবিদ এন্টারপ্রাইজে লুটপাট ছিনতাই ও হত্যাকান্ডের বিচার চেয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছে ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী আলমগীর হোসেন। শুক্রবার বেলা ১১টা রিপোর্টার্স ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে হত্যাচেষ্টার ঘটনায় থানায় মামলা না নেওয়ার প্রতিবাদ জানিয়ে উক্ত ঘটনার ন্যায় বিচার দাবি করেন আদিব এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী ও আরএফএল কোম্পানির এজেন্ট আলমগীর। সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, 'নগরীর আজাহার প্লাজার দক্ষিণ পাশে সরকারি ভিপি সম্পত্তিতে মসজিদ সংলগ্ন পরিত্যক্ত একটি গুদামঘর সকলের জ্ঞাতসারে এক যুগ ধরে মালামাল রেখে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিলেন। গত ২২ ফেব্রুয়ারি তারিখে হঠাৎ জনৈক আ: মতিন ওই প্রতিষ্ঠানে এসে গুদামঘরের সম্পত্তি তার স্ত্রী রাজিয়া সুলতানার বলে দাবি করে এবং জোরপূর্বক আমাকে গুদাম ঘরের ডিড করতে বলে। পরবর্তীতে চাপ সৃষ্টি করে তারা একটি ৩ বছর মেয়াদের ডিড প্রস্তুত করে স্বাক্ষর নেন এবং সেখানে কয়েকজন সাক্ষীর স্বাক্ষর নেওয়ার কথা বলে ডিডটির মূলকপি নিয়ে চলে যায় আ: মতিন।' 'ডিড কপি নিয়ে চলে যাওয়ার চারদিন পর আমার অবর্তমানে কর্মচারী ও গুদাম ঘরে থাকা আমার পিতাকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে গুদামঘর ছেড়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে যান মতিন। আলমগীর বলেন, 'হুমকির ৪৮ ঘন্টা পর গত ২০ মার্চ বিকেলে আব্দুল মতিন, জাহাঙ্গীর কাজল, বাবলু, মর্তুজাসহ ১৫-২০ জন যুবক আমার গুদাম ঘরে হামলা চালায় এবং ঘরের উপরে টিনের খুলে ফেলে মালামাল ভাঙচুর করে গুদাম ঘরে থাকা সিসি ক্যামেরাটি নিয়ে চলে যায়। এ ঘটনায় ব্যবসায়ী মেট্রোপলিটন থানায় অভিযোগ ও বিজ্ঞ আদালত এডিএম কোর্টে ১৪৪/১৪৫ ধারায় মামলা দায়ের করেন। অভিযোগের বিষয়ে থানা এবং শালবন ভূমি কর্মকর্তার অধীনে তদন্তাধীন থাকা অবস্থায় গত ২৯ মার্চ বিকেলে পূণরায় গুদামঘর ভাঙচুর করে মতিন ও তার সাঙ্গোপাঙ্গ ১৫/২০ যুবক। তারা পরিকল্পিতভাবে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে আমার প্রতিষ্ঠান অফিসে এসে আমাকে একা পেয়ে এলোপাতাড়ি মারডাং করে গুরুতর জখম করে। এসময় ঘর ভাঙচুর করে অফিস চেম্বারে ক্যাশ বাক্স খুলে আরএফএলের থাকা ৫ লক্ষ টাকা জোরপূর্বক নিয়ে যাওয়াসহ গোডাউন ঘরে থাকা মালামাল ভাংচুরে প্রায় ১০ লাখ টাকার ক্ষতিসাধন করে। এই সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের ফুটেজ সিসিটিভিতে সংরক্ষিত আছে বলেও সংবাদ সম্মেলনে জানান আলমগীর। এ ঘটনার পর মেট্রো কোতোয়ালী থানায় একটি মামলা করলে পরবর্তীতে মামলারটি ক্রোকারিজ মার্কেট কমিটিকে তিনদিনের সময়সীমা বেঁধে দিয়ে সমাধানের তাগিদ দেন পুলিশ। সময় অতিবাহিত হলেও হয়নি সমাধান তাই পরবর্তীতে এজাহার মূলে মামলাটি নেওয়ার কথা বললে পুলিশ গরিমশি করে সময় পার করে দিচ্ছে। উল্টো পুলিশ এ ঘটনার সাথে জড়িত ব্যক্তিদের বাদ দিয়ে অন্য তৃতীয় একটি পক্ষকে দিয়ে ঘটনার ক্ষমা চাওয়ার নামে সমাধানের চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ ব্যবসায়ীর। অপরদিকে মতিন গ্রুপের লোকজন মামলা করাকে কেন্দ্র করে পরিবারসহ তাকে হুমকি ধামকি দিয়েই যাচ্ছেন বলে সংবাদ সম্মেলনে জানান আলমগীর।' এদিকে একজন ক্রোকারিজ ব্যবসায়ীর ওপর দিনে দুপুরে হামলার প্রতিবাদ ও ন্যায় বিচারের দাবিতে জেলা প্রশাসক বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছেন বলে জানান কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো. রতন। বিষয়টি নিয়ে গত ৭ এপ্রিল একদফায় বসার চেষ্টা করেও কোন সমাধান হয়নি বলে জানান তিনি। গোডাউন ঘরের মালিক আব্দুল মতিন বলেন, ভাড়াটিয়া তার প্রয়োজনে সংবাদ সম্মেলন করেছেন। প্রয়োজন হলেও আমি আপনাদের বলবো। রংপুর মেট্রোপলিটন কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুর রশিদ জানান, ভাংচুরের ঘটনায় ক্রোকারিজ মার্কেটের ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ মিমাংসার চেস্টা করেন। এতে ব্যর্থ হলে আমি ভিকটিমকে আদালতের আশ্রয় নেয়ার জন্য বলি।