ফরিদপুর প্রতিনিধি: ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার গুনবহা ইউনিয়নের হরিহরনগর গ্রামে আওয়ামী লীগের দু'পক্ষের আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে হামলায় বাড়িঘর ভাংচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। বুধবার ভোর থেকে সকাল ৯ টা পর্যন্তু তিনদফায় এ হামলার ঘটনা ঘটে। ঘটনার সাথে জড়িত সন্দেহে আক্কাস নামে একজনকে আটক করেছে পুলিশ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। সরেজমিনে ঘুরে জানা যায়, ৯ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি, সাবেক ইউপি সদস্য সাহেব আলী ও বর্তমান ইউপি সদস্য মঞ্জুর হোসেন এবং অপরপক্ষ ইউনিয়ন যুবলীগের যুগ্ন আহবায়ক বাকিয়ার মোল্যার মধ্যে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে পূর্বেও একাধিকবার এ সংঘর্ঘের ঘটনা ঘটেছে। তারই জের ধরে বুধবার ভোর ৪টা থেকে তিন দফা হামলা চালিয়ে কমপক্ষে ২০টি বাড়িতে ব্যাপক ভাংচুর করা হয়েছে। লুটপাট করা হয়েছে নগদ অর্থ, স্বর্ণালঙ্কার, এলইডি টিভিসহ দামি আসবাবপত্র ও গবাদিপশু-পাখি। হামলায় উজ্জ্বল মোল্যা (২২) ও হুমায়ুন আহত হয়েছে। হামলার স্বীকার বাকিয়ার মোল্যার স্ত্রী সালমা বেগম জানান, বুধবার রাত ৪টার দিকে অতর্কিতভাবে হামলা চালায়। ঘুমন্ত নারী-পরুষ কোন কিছু বুঝে ওঠার আগেই স্থানীয় আক্কাস মোল্যা, গুনবহা ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি, সাবেক মেম্বার সাহেব মোল্যা ও বর্তমান ইউপি সদস্য মঞ্জুর হোসেন এবং আওয়ামী লীগ নেতা বাবলুর নেতৃত্বে তিনটি গ্রæপ এই ভাংচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটায়। তিনি আরও জানান- ভাংচুরে অংশগ্রহণ করে আশিক, অমিত, মুকুল, আইযুব, সাহেদ, লিটন, আল আমিনসহ ২৫ থেকে ৩০ জনের একটি দল। এ সময় তারা তাদের (বাকিয়ার) ঘর থেকে এক লক্ষ টাকা ও কানের গহনা নিয়ে গেছে। এ সময় মনোয়ার মোল্যা, ফটিক মোল্যা, বিপ্লব মোল্যা, বক্কার মোল্যা, ইকবাল মোল্যা, রাহেন মোল্যা, নিহার বেগম, সেকেন্দার খাঁ, বাদশা মোল্যা, সরোয়ার শেখ, মিটুল মোল্যা, আকিদুল খাঁ, ওবায়দুর খাঁ, জাকির মোল্যাসহ ২০জনের বসতঘরে ব্যাপক ভাংচুর করা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্থ বক্কার মোল্যার স্ত্রী মিনু বেগম জানান, তার ৫০ হাজার টাকা, টিভি ও ৮০টি কবুতর নিয়ে গেছে লুটপাটকারীরা। জাকির মোল্যার স্ত্রী জেসমিন কান্নাজড়িত কন্ঠে বলেন, তার স্বামীর কিডনির অপারেশনের জন্য বুধবার সকালে ঢাকায় যাওয়ার কথা ছিল। এজন্য চারটি গরু বিক্রির এক লক্ষ ৫০ হাজার টাকা ঘরে ছিল। হামলাকারী আশিক, অমিত, মুকুল, মনিররা সব টাকা নিয়ে গেছে। ভাংচুরের কথা স্বীকার করে গুনবহা ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড আ.লীগ সভাপতি সাহেব আলী মোল্যা জানান, প্রতিপক্ষের লোকজন হামলা করতে আসলে এই ভাংচুরের ঘটনা ঘটে। এ ব্যাপারে বোয়ালমারী থানার অফিসার ইনচার্জ মো. আমিনুর রহমান জানান, ঘটনা জানার সাথে সাথেই পুলিশ ফোর্স পাঠানো হয়েছে। তিনি নিজেও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তদন্ত পূর্বক আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অন্যায় করে কেউ পার পাবে না।