স্কুল বন্ধ থাকায় মানবেতর জীবন যাপন করছেন কিন্ডারগার্টেন শিক্ষক-কর্মচারীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক:
বৈশ্বিক মহামারী করোনা দূর্যোগে সরকারী নির্দেশে রংপুরের কাউনিয়ায় সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় কর্মহীন হয়ে পড়েছে কিন্ডার গার্টেনের শিক্ষক-কর্মচারীরা। বেতন ভাতা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় হারাগাছ পৌরসভাসহ উপজেলার কিন্ডার গার্টেন গুলোর শিক্ষক-কর্মচারীরা তাদের পরিবার পরিজন নিয়ে দীর্ঘ ৮ মাস ধরে মানবেতর জীবন যাপন করছে। শিক্ষার্থীদের বেতনের টাকায় চলা কিন্ডার গার্টেনের এ সব শিক্ষক-কর্মচারীগণ বর্তমানে তাদের পরিবার পরিজন নিয়ে দূর্ভোগে দিন কাটাচ্ছে।

জানা গেছে, কাউনিয়া উপজেলার হারাগাছ পৌরসভাসহ ৬ ইউনিয়নে প্রায় ৩১টি কিন্ডার গার্টেনে প্রায় ৪ শতাধিক শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োজিত আছে। এরা প্রায় ১৪ হাজার কোমলমতি শিক্ষার্থীকে পাঠদান করে আসছে। এ সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিক্ষার্থীদের বেতনের টাকায় পরিচালিত হয়। এমন কী শিক্ষার্থীদের বেতনের টাকায় শিক্ষক-কর্মচারীরা বেতন ভাতা পেয়ে থাকেন। শিক্ষার্থীদের বেতনের টাকা ও প্রাইভেট টিউশনের টাকা দিয়ে কোন রকম চলতো পরিবারের ভরন পোষন। কিন্তু করোনায় প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীদের বেতন দেয়াও বন্ধ। পাশাপাশি বন্ধ রয়েছে প্রাইভেট টিউশনিও।

ফলে সব মিলিয়ে আয় বন্ধ হওয়ায় বিপাকে পড়েছে এ সব কিন্ডার গার্টেনের শিক্ষক-কর্মচারীরা। এদিকে সামাজিক মর্যাদার বিবেচনায় এদের দেয়া হয় না সরকারী কোন প্রকার সাহায্য। তবে এদের দু’একজনের নাম সরকারী সাহায্যের খাতায় উঠলেও লাজ লজ্জার কারণে লাইনে দাড়িয়ে ত্রান নিতেও পারছে না তারা। ইতোমধ্যে সরকার নন এমপিও ভুক্ত কিছু শিক্ষক-কর্মচারীদের মাঝে সহযোগিতা করলেও তারা বলেন-তা দিয়ে কী মাসের পর মাস চলা যায়!

কয়েকজন কিন্ডার গার্টেনের শিক্ষক বলেন- আমরা সরকারী/বে-সরকারী কোনটাই না, পাবলিক চালিত প্রতিষ্ঠান। বেতন না ভাতা পাই। লকডাউনে তাও বন্ধ হয়ে গেছে। এখন আমরা পরিবার পরিজন নিয়ে কষ্টে আছি। সবুজ কিন্ডার গার্টেনের অধ্যক্ষ সাইদুল ইসলাম ও কেয়ার শিশু নিকেতনের অধ্যক্ষ মোশারফ হোসেন বলেন- ছেলে মেয়েদের নুতন কাপড় কিনে দিতে পারছি না, এখন পেটের ভাত জোগাড় করায় যেখানে দায় সেখানে বিলাসিতার চিন্তা করা কঠিন ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। সাধ আছে সাধ্য নেই অবস্থা। সরকারী ভাবে সাহায্যের ব্যবস্থা না করলে কিন্ডার গার্টেনের সকল শিক্ষক-কর্মচারীদের জীবন দুর্বিসহ হয়ে উঠবে।

কাউনিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোছাঃ উলফৎ আরা বেগম জানান, লকডাউন চলা কালে কিছু শিক্ষক-কর্মচারীকে সহযোগিতা করা হয়েছে। এছাড়াও প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক নন এমপিও কারিগরি, মাদ্রাসা ও স্বতন্ত্র এবতেদায়ী মাদ্রাসার শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্য বরাদ্দকৃত অনুদান ৫ লাখ ৫৭ হাজার ৫ শত টাকা বিতরণ করা হয়েছে। তিনি জানান, সত্যিই তারা বেশ কষ্টে আছে।

Comments (০)
Add Comment