স্বামী ছাড়াই প্রতিবন্ধীর সন্তান প্রসব, বাবাকে খুঁজছে পুলিশ

ফাইল ছবি

ঝালকাঠির রাজাপুরে পুত্র সন্তান প্রসব করেছেন স্বামী পরিত্যক্তা এক বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী নারী। এ ঘটনায় বুধবার সকালে পাঁচজনের বিরুদ্ধে থানায় ধর্ষণ মামলা করেন ভুক্তভোগী নারীর বড় বোন।

অভিযুক্তরা হলেন- পূর্ব রাজাপুর গ্রামের আলমগীর হোসেনের ছেলে মো. রাহাত হোসেন, উত্তর সাউথপুর গ্রামের আবদুল লতিফ হাওলাদারের ছেলে মানিক হাওলাদার, পূর্ব রাজাপুর গ্রামের বেল্লাল খার ছেলে মো. তারেক খাঁ, চুনপুরী গ্রামের মো. আরিফ ও আলী আহম্মদের ছেলে মো. নাসির। তাদের গ্রেফতার করে ডিএনএ টেস্টের মাধ্যমে শিশুটির বাবাকে শনাক্ত করা হবে বলে জানিয়েছেন ওসি।

পুলিশ জানায়, ৩ জুন সকালে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন অবস্থায় পুত্র সন্তানের জন্ম দেন ওই নারী। তিনি মা হলেও সন্তানের বাবা কে তা নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। অবশেষে সন্তান প্রসবের ছয়দিন পর এ ঘটনায় মামলা হলে পিতৃ পরিচয় খুঁজতে মাঠে নেমেছে পুলিশ।

বুধবার দুপুরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন ঝালকাঠির সিনিয়র এএসপি (রাজাপুর-কাঁঠালিয়া সার্কেল) মো. শাখাওয়াত হোসেন ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই খোকন হাওলাদার।

মামলার এজাহারে ভুক্তভোগীর বড় বোন উল্লেখ করেন, তার ছোট বোন একজন বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী। ১৫ বছর আগে তার বিয়ে হয়। ১২ বছর বয়সী তার একটি ছেলে রয়েছে। আট বছর আগে তাকে তালাক দেন স্বামী। এরপর বোনের বাড়ির পাশে একটি ঘরে থেকে ভিক্ষা করে কোনোরকমে সংসার চালাতেন। ৯ থেকে ১০ মাস আগে তার ঘরে লোকজনের উপস্থিতি টের পেতেন মামলার বাদী বড় বোন। তিন মাস আগে বোনের পেট উঁচু দেখে তার সন্দেহ হয়।

এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করলে পেটের ভেতরে টিউমার হয়েছে বলে জানান তিনি। ২ জুন অসুস্থ হয়ে পড়েন বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী ওই নারী। পরে স্থানীয় ইউপি সদস্য নাজমা ইয়াসমিন মুন্নির সহযোগিতায় তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। এরপর ৩ জুন পুত্র সন্তান জন্ম দেন তিনি। বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

বোনকে ধর্ষণের বিচারের পাশাপাশি সদ্য জন্ম নেয়া শিশুর পিতৃ পরিচয় খুঁজে বের করার দাবি জানিয়েছেন মামলার বাদী।

এ ব্যাপারে রাজাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা আবুল খায়ের রাসেল বলেন, বর্তমানে মা ও নবজাতক শিশুটি সুস্থ রয়েছেন। তাকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। ভর্তির সময় ওই নারীর স্বামীর নাম পাওয়া যায়নি।

রাজাপুর থানার ওসি মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, এজাহারে যাদের নাম রয়েছে, প্রথমে তাদের ডিএনএ পরীক্ষা করা হবে। এরপর সন্দেহভাজনদের আটক করে ডিএনএ পরীক্ষা করা হবে। সন্তানটির প্রকৃত বাবাকেও খুঁজে বের করার জন্য যা করা প্রয়োজন পুলিশের পক্ষ থেকে তা করা হবে।

নিউজ সোর্স : স্বামী ছাড়াই প্রতিবন্ধীর সন্তান প্রসব, বাবাকে খুঁজছে পুলিশ

Leave A Reply

Your email address will not be published.