সেবায় মানবতায় যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসীদের ‘এবিসিডি’

সেবায় মানবতায় যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসীদের ‘এবিসিডি’

ইংরেজি বর্ণমালার প্রথম চার অক্ষরে এবিসিডি, সংক্ষিপ্ত এই নামেই যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির কাছে সংগঠনটি পরিচিত। এর পুরো নাম আমেরিকান বাংলাদেশ কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট। সংগঠনের যাত্রা শুরু নিউইয়ার্কের কুইনসে করোনা মহামারিরসূচনাকালে গতবছর। এর তারুণ্যদীপ্ত উদ্যোক্তাদের তৎপরতায় দিন দিন বাড়ছে পরিধি। করোনায় ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা ও পূণর্বাসনে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের সহযোগী হয়ে কাজ করার সুযোগ পেয়েছে প্রবাসী বাংলাদেশিদের গড়া সেচ্ছাসেবী এই সংগঠনটি।

আমেরিকান বাংলাদেশ কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট (এবিসিডি) সংগঠনটির প্রাথমিক ভিত্তি গড়ে তোলেন সিলেটে থেকে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়া প্রবাসীরা।ওই অঞ্চলের কেউ যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে ভিসা-অভিভাসন জটিলতা বা অন্যকোনো বিপদে পড়লে সম্মিলিতভাবে তাকে সহযোগিতা করতে গিয়েই একজোট হন তারা। এ কাজে অর্থায়ন করতেন যার যার সামর্থ্য অনুযায়ী নিজেরাই। ​সবাই মিলে একটি সংগঠন গড়ার কথা প্রথম ভাবেন খাইরুল ইসলাম খোকন। এবিসিডি’র স্বপ্নদ্রষ্টাই বর্তমানে পালন করছেন সংগঠনটির সভাপতির দায়িত্ব, সাধারণ সম্পাদক হিসেবে রয়েছেন সোহেল আহমেদ।

প্রবাসীদের কাছে সুপরিচিতি আমেরিকান বাংলাদেশ কমিউনিটি ডেভেলপমেন্টের সাধরণ সম্পাদক সোহেল আহমেদ চার সপ্তাহের সফরে বর্তমানে বাংলাদেশ অবস্থান করছেন। তিনিই জানালেন, এবিসিডির বিন্দু থেকে বৃত্ত আঁকার ঘটনা।

সোহেল আহমেদ জানান, সংগঠন গড়ে তোলার সূচনাকালে বিশ্বজুড়ে আবির্ভূত হয় করোনাভাইরাস। শুরু হয় মহামারি। যুক্তরাষ্ট্রেও প্রবল হয়ে ওঠে চিকিৎসা, কর্ম ও খাদ্য সংকট। সদস্যদের যৎসামান্য অর্থায়নে এবিসিডি সীমিত তহবিল নিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশিদের দূর্যেোগ মোকবেলায় সাহায্য দিতে ঝাঁপিয়ে পড়ে। কিন্তু অন্যদেশের বিপদাপন্ন মানুষদের আর্তনাদকে তারা এড়িয়ে যেতে পারেন না। কাজেই এবিসিডি ত্রাণ সেবা পেতে খাকেন সবদেশর মানুষরাই।

করোনাকালে সদিচ্ছা নিয়ে মানুষের সেবায় নিবেদিত থাকতে চাইলেও অল্প সময়ে এবিসিডি’র তরুণদের স্বপ্ন মুখ থুবড়ে পড়ে। কারণ করোনা এতই ব্যাপক হারে বিস্তৃত হতে থাকে যে, সদস্যদের সীমিত অনুদানে বিপুল সংখ্যক মানুষকে সহায়তা করা কঠিন হয়ে যায়। এই সময় এবিসিডির সদস্যরা তাদের খাদ্যসামগ্রী ও নিত্যপন্য বিতরণের কিছু ভিডিও ফেসবুকে লাইভ প্রচার করে। মহামারিতে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের সেবা চালিয়ে যেতে তহবিল সংকটের বিষয়টি তারা লাইভে জানায়। শুরুতে কেবল আমেরিকার বিভিন্ন প্রান্তে থেকে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কাছ থেকে সাড়া পাওয়া যায়। পরে এবিসিডি কর্ম-উদ্দিপনায় উৎসাহ দিতে এগিয়ে আসে আমেরিকানসহ নানা দেশের মানুষেরাও। তহবিল বড় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এবিসিডির সেবা কুইন্স থেকে নিউইয়র্কের নানাপ্রান্তে বিস্তৃত হয়।

সোহেল আহমেদ জানান, একপর্যায়ে তাদের এই স্বেচ্ছাশ্রম নজর কাড়ে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় সরকারের। মার্কিন সিনেটে আলোচিত হয় এবিসিডির সাহসী তৎপরতা। নিউইয়র্কের মেয়রও তাদের অভিনন্দন জানিয়ে তাদের বার্তা পাঠান। এরপরই তাদের সংগঠন সরকারের ত্রাণ কাজে অংশ নেওয়ার ডাক পান। করোনার সেই ভয়াবহ পরিস্থিতিতে নিজেদের পড়াশোনা ও কাজের সময়টুকু ছাড়া এবিসিডির সদস্যরা মার্কিন সরকার থেকে পাওয়া খাদ্য ও পণ্যসামগ্রী গৃহবন্দি মানুষের দরোজায় পৌছে দিতে নিবেদিত হন। এই সময় তাদের মনে হয়, করোনা দুর্যোগে ধুকতে থাকা প্রিয় জন্মভূমি বাংলাদেশের জন্যও কিছু করণীয় আছে। স্বজনদের মাধ্যমে সিলেট অঞ্চলের কর্মহীন হয়ে পড়া শিক্ষকদের দূর্দশার কথা তারা জানতে পারেন। নিজেদের জমানো তহবিলের একটা অংশ শিক্ষকদের কল্যাণে বরাদ্দ দেন। কর্মহীন হওয়া নাট্য ও সংস্কৃতি কর্মীদের বিপর্যয়ে সহায়তা করতেও এবিসিডি এগিয়ে আসে। তাদের পাঠানো অর্থ বাংলাদেশ গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশানের মাধ্যমে পৌছে যায় দুঃস্থ ও অসহায় শিল্পীদের কাছে।

দেশে লাইভ শো করে ব্যাপক আলোচিত ব্যারিস্টার সুমন যখন ফুটবল বিকাশে কাজ শুরু করেন, ওইসময় আমেরিকা এবিসিডি তাকে উৎসাহিত করে ফুটবলারদের জার্সি আর শরীর চর্চার সামগ্রী দিয়ে। মানুষের কল্যাণে নিবেদিত যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী এই তরুণদের পক্ষে প্রচারণায় নামেন সাকিব আল মামুনের মতো দেশসেরা ক্রিকেটার।

এবিসিডি’র সাধারণ সম্পাদক জানান, করোনাকালে গত একবছরে তাদের সংগঠন বাংলাদেশের বিপন্ন মানুষদের মাঝে অর্ধকোটি টাকারও বেশি অর্থসহায়তা দিয়েছে।

অল্প সময়ে বড় প্লাটফর্মে পৌছে যাওয়া আমেরিকান বাংলাদেশ কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট (এবিসিডি) সংগঠনটির ভবিষ্যত পরিকল্পনার কথা জানতে চাইলে সাধারণ সম্পাদক সোহেল আহমেদ বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে মহামারি পরিস্থিতি এখন অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে। সংক্রমণের ভয়াবহ সময়ে আমরা যে তৎপরতা চালিয়েছি, বর্তমানে সেটি প্রয়োজন পড়ছে না। কাজেই যুক্তরাষ্ট প্রবাসী বাংলাদেশীদের উন্নয়ন ও কল্যাণে কাজ করায় জোর দিচ্ছি। আরো নজর রাখছি মাতৃভূমি বাংলাদেশের প্রতি। আমাদের নিজ এলাকা সিলেটের মানুষের রোগে শোকে পাশে দাঁড়ানো অব্যাহত আছে। এটা সারা বাংলাদেশে বিস্তৃত করার পরিকল্পনা আছে। এ জন্য আমরা যুক্তরাষ্ট্রে ফান্ড কালেকশনে কাজ করে যাচ্ছি। এবিসিডির কোনো না কোনো সদস্য প্রতিমাসেই বাংলাদেশে আসে। তার মাধ্যমে সরেজমিনে প্রকৃত অসহায়, অভাবী আর চিকিৎসাবঞ্চিত মানুষকে অর্খসহায়তা দিয়ে যেতে চাই। এছাড়াও তারুণ্যের সংগঠন এবিসিডি বাংলাদেশের খেলাধূলার উন্নয়নে আগামী দিনে ভূমিকা রাখতে চায়।

দেশের প্রকৃত দুঃস্থ, অসহায় ও অসুস্থ মানুষ এবিসিডি’র সহায়তা পেতে চাইলে ফেসবুক পেইজ American Bangladeshi Community Development -এর মাধ্যমেও আবেদন জানাতে পারেন। নিজস্ব সোর্সের মাধ্যমে অনুসন্ধান চালিয়ে নিশ্চিত হওয়ার পর পাওয়া যাবে এবিসিডি’র অনুদান।

বাংলাদেশ জার্নাল-ওআই

নিউজ সোর্স : সেবায় মানবতায় যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসীদের ‘এবিসিডি’

Leave A Reply

Your email address will not be published.