শিকলে বন্দি দীপকের জীবন

শিকলে বন্দি দীপকের জীবন

বছর খানেক আগে দীপক চন্দ্র হঠাৎ অসংলগ্ন কথাবার্তা বলা শুরু করেন। সঙ্গে যোগ হয় অস্বাভাবিক আচরণ। একপর্যায়ে বাড়ি থেকে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এরপর পরিবারের লোকজনকে মারধর করাসহ আসবাবপত্র ভাঙচুর করতে থাকেন তিনি।

এ অবস্থায় নিরুপায় হয়ে বাড়ির লোকেরা পাঁচ মাস ধরে শিকল ও রশি দিয়ে দীপকের হাত-পা বেঁধে রেখেছেন। দীপক রাজশাহীর বাগমারার মচমইল আদিবাসীপাড়ার গোপাল চন্দ্রের ছেলে।

সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, মচমইল বাজারের পাশে পরিত্যক্ত এক জমিদার বাড়িতে বসবাস কয়েকটি ক্ষুদ্র জাতিসত্তার পরিবারের। সেখানে দীপকের পরিবারও থাকে। ঘরের বাইরে একটি খুঁটির সঙ্গে শিকল আর রশি দিয়ে দীপকের হাত-পা বাঁধা। তার দুই পায়ে শিকল পড়ানো রয়েছে। এছাড়াও পিটমোড়া দিয়ে বাঁধা আছে হাত। কথাবার্তা বলছেন না। মাঝে মধ্যে শিকল খোলার জন্য বিভিন্নভাবে চেষ্টা করছেন।

দীপকের বাবা গোপাল চন্দ্র বলেন, তারা গরিব মানুষ। এর মধ্যে তার ছেলে মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে গেছেন। চিকিৎসার জন্য টাকা না থাকায় কবিরাজের কাছে নিয়ে যাচ্ছেন।

মা সন্ধ্যা রানী কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, টাকার অভাবে ছেলের ভালোভাবে চিকিৎসা করাতে পারছেন না। ছেলে ভালো না হওয়ায় দেড় মাস আগে তার পত্রবধূ শ্বশুরবাড়ি ছেড়ে বাবার বাড়িতে চলে গেছেন।

তিনি আরো বলেন, কাজ না করলে খাবার জুটবে না। তাদের কাজের জন্য বাড়ির বাইরে যেতে হয়। এ জন্য নিরুপায় হয়ে ছেলেকে বেঁধে রেখে যান।

স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও কলেজ শিক্ষক সমরেশ সরকার বলেন, দীপক দিনমজুরি করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। হঠাৎ তিনি মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তিনি দীপকের চিকিৎসার জন্য কিছু আর্থিক সহযোগিতা করেছেন। কিন্তু সামর্থ্য না থাকায় দীপকের পরিবার কবিরাজের কাছে যাচ্ছে।

শুভডাঙ্গা ইউপি চেয়ারম্যান আবদুল হাকিম বলেন, তিনি দীপকের বিষয়টি জানেন। তার পরিবারকে সহায়তা করেছেন। আবারো খোঁজখবর নেবেন।

নিউজ সোর্স : শিকলে বন্দি দীপকের জীবন

Leave A Reply

Your email address will not be published.