রৌমারীতে শহররক্ষার বাঁধ ভেঙ্গে উপজেলাসহ ৩ লক্ষ মানুষ পানিবন্দি

- Advertisement -

রৌমারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি:
অবশেষে ভেঙ্গে গেল উপজেলা শহররক্ষা বাঁধটি। এতে উপজেলা চত্বরসহ ৬টি ইউনিয়নের ৩ লক্ষ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে । ফলে উপজেলার দুই শতাধীক পুকুরের মাছ ভেসে যায় ও সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সরকারী-বেসরকারী অফিস আদালত, ও উপজেলা প্রেসক্লাব এবং পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে প্রায় ১ হাজার হেক্টর জমির বিভিন্ন ফসল। ভেঙ্গে পড়েছে যোগাযোগ ব্যবস্থা। বানভাসি মানুষ তাদের আসবাবপত্র নিয়ে আশ্রয় নিচ্ছে ডিসি রাস্তায়। দেখা দিয়ে শুকনো খাবারের সংকট।

১৫ জুলাই (বুধবার) সন্ধ্যা ৭টায় বন্দবেড় ইউনিয়নের বাগমারা গ্রামের আব্দুল জলিলের পুকুর পাড় স্থানে শহররক্ষা বাঁধটি ভেঙ্গে উপজেলা সদরে পানি প্রবেশ করে । ১৬ জুলাই (বৃহস্পতিবার) সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, গত বছরের ভয়াবহ বন্যায় বিভিন্ন এলাকার বেড়িবাঁধ ও সংযোগকারী রাস্তাগুলো ভেঙ্গে যায়। এক বছর অতিবাহিত হলেও বাঁধ ও সংযোগকারী রাস্তাগুলো মেরামত করা হয়নি।

Rowmari pic 316 07 2020ফলে কয়েক দিনের টানা ভারীবর্ষণে ও উজান থেকে নেমে আসা ভারতীয় পাহাড়ী ঢলে ব্রহ্মপুত্র নদের ও জিঞ্জিরাম নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে নদের দু-কুল উপচে বিভিন্ন এলাকায় সহজে পানি প্রবেশ করে। আগের বন্যার পানি কিছু শুকালেও হঠাৎ নতুন করে আবারো পানি বৃদ্ধি পেয়ে তলিয়ে যায় উপজেলার ৬টি ইউনিয়ন। অস্বাভাবিক ভাবে পানি বৃদ্ধি হওয়ায় প্রথমে শহররক্ষা বাঁধের উপর দিয়ে পানি গড়তে থাকে। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জিও ব্যাগের মাধ্যমে মাটি ভরাট করে উপচেপড়া পানি বন্ধ করার চেষ্টা করা হয়। ধীরগতিতে কাজ ও জনবল সংকটের কারণে শেষ চেষ্টা করেও রক্ষা করা সম্ভব হয়নি বাঁধটিকে।

বন্দবের গ্রামের বানভাসি মোকছেদুল ইসলাম বলেন, আমার ঘরে কোমড় পানি। রান্না করতে না পারায় উপোস থাকতে হচ্ছে। শুকনো খাবারোও ঘরে নাই। কলেজপাড়ার আবু তালেব জানান, ঘরবাড়ি তলিয়ে যাওয়ায় পরিবার পরিজন নিয়ে খুবই বিপদে আছি। এখন পর্যন্ত সরকারি কোন ত্রান পাইনি। খাঁনপাড়া গ্রামের বাসিন্দা আজাহার আলী অভিযোগ করে বলেন, আমি ৪দিন ধরে ঘরে পানিবন্দি হয়ে আছি। মেম্বার ও চেয়ারম্যানরা এখনও দেখতে আসেনি। স্ত্রী-সন্তান নিয়ে কষ্টে আছি। ফলুয়ারচর গ্রামের আব্দুর ছবুর জানান, আমার বাড়িতে মাথা পর্যন্ত পানি। তাই বাড়ির লোকজন উঁচু জায়গায় আশ্রয় নিয়েছি। ঘরে খাবারের সংকট থাকায় দিশেহারা আমি।

Rowmari pic 2 16 07 20উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আজিজুর রহমান বলেন, ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের নামের তালিকা করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ৬টি ইউনিয়নে ১২ মেট্রিকটন চাউল, শিশু খাদ্য ১৫ হাজার, গোখাদ্য ১৫হাজার ও জিআরের ৩০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার আল ইমরান বলেন, নতুন করে বন্যার পানি বৃদ্ধি হওয়ায় এলাকার অনেক ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্থদের তালিকা করা হচ্ছে।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

Leave A Reply

Your email address will not be published.