রাস্তা মেরামতে কাদা মাটি, চরম দুর্ভোগ

রাস্তা মেরামতে কাদা মাটি, চরম দুর্ভোগ

সিরাজগঞ্জের তাড়াশে সাড়ে তিন লাখ টাকার রাস্তা মেরামত কাজের জন্য পুকুর থেকে ফেলা হচ্ছে কাদা মাটি। এতে এলাকাবাসী চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।

তাড়াশ উপজেলার নওগাঁ ইউপির পংরৌহালী-বিরল এলাকায় মেরামতের নামে রাস্তাটি বেহাল দশায় পরিণত হয়েছে। 

নওগাঁ বাজার থেকে হামকুড়িয়া রাস্তার পংরৌহালী পাকার মাথা থেকে বিরল আফাজ ফকিরের বাড়ির সামনের ব্রিজ পর্যন্ত রাস্তা মেরামতের জন্য কাবিটার সাড়ে তির লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। 

এই অসময়ে প্রচলিত আইন অমান্য করে অপরিকল্পিতভাবে রাস্তা মেরামত কাজের মাটির জন্য ওই রাস্তারই পাশে বিরল এলাকায় একটি ব্রিজ নষ্ট করে তিন ফসলি জমিতে পুকুর খনন করা হচ্ছে। এতে ওই রাস্তার ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। 

আব্দুর রহিম নামে এক ব্যক্তি ওই পুকুর খনন করছেন আবার ওই রাস্তার মেরামত কাজেরও দায়িত্বে আছেন। খনন করা তার পুকুরের কাঁদা মাটি দিয়েই রাস্তাটির নামমাত্র মেরামত কাজ করছেন। 

এ দিকে রাস্তায় কাঁদা মাটি ফেলানোর কারণে যানবাহন চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে আছে এক মাস ধরে। ফলে এলাকাবাসীর আর্থিক অভাব-অনটন ও জনদুর্ভোগ আরো ব্যাপক ভাবে বেড়ে গেছে।  

রাস্তা মেরামতে কাদা মাটি, চরম দুর্ভোগ

মুজিব নগর হিসেবে খ্যাত ওই এলাকার মানুষ চলাচল ও কোনো কিছু ওই রাস্তা দিয়েপরিবহন করতে পারছেন না। এ নিয়ে এলাকায় চলছে সমালোচনা। রাস্তা চলাচলের অনুপযোগী হওয়ায় ওই এলাকার মানুষের চলাচল ও পরিবহন খরচ বেড়ে গেছে কয়েক গুণ। বেহাল রাস্তার কারণে বন্ধ হওয়ার পথে বিরল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও জলিল নগর হাই স্কুলের ভবন নির্মাণ কাজ এবং ওই এলাকার অসংখ্য হ্যাচারি ও খামার। 

কৃষকসহ হ্যাচারি ও খামার মালিকরা মহাবিপাকে পড়েছেন। তারা পাচ্ছেন না পণ্যের ন্যায্য মূল্য। এ ছাড়াও ওই রাস্তায় প্রায়ই ঘটছে অঘটন। 

অপরদিকে গত অর্থ বছরেও বিরল থেকে হামকুড়িয়া পর্যন্ত রাস্তা মেরামতের নামে প্রচলিত আইন অমান্য করে সরকারি লাখ লাখ টাকা ও শতাধিক গাছ হরিলুট করা হয়েছে। রাস্তার তেমন কোনো উন্নয়নই হয়নি। এমনকি অপরিকল্পিতভাবে অসময়ে রাস্তা মেরামত কাজ করার কারণে রাস্তার কোনো কোনো জায়গায় আরোও বেশি ক্ষতি হয়েছে। 

রাস্তার উন্নয়ন না হওয়ায় জীবন যাত্রার মান ও আর্থিক উন্নয়ন বাড়ছে না মুজিব নগর হিসেবে খ্যাত ওই এলাকার মানুষের। যা নিয়ে জনমনে চরম ক্ষোভ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে অনেক দিন ধরে।

রাস্তা মেরামতে কাদা মাটি, চরম দুর্ভোগ 

পংরৌহালী গ্রামের কৃষক মো. নজরুল ইসলাম বলেন, ধান কাটার শুরু থেকে এখন পর্যন্ত এক মণ ধানও বিক্রি করতে পারিনি। এ রাস্তার বেহাল দশার কারণে কোনো প্রকার যানবাহন চলাচল করতে পারে না। 

তিনি আরো বলেন, পাশাপাশি দুই গ্রামের বেশিরভাগ মানুষই কৃষক। কাঁচা বাজার করে খাওয়ার মতো টাকা পকেটে নেই। আমরা পড়ে আছি মহাবিপাকে।

এ বিষয়ে বিরল গ্রামের মো. সবুজ ফকির বলেন, আমার একটা মুরগির খামার আছে। গত ৩ দিন আগে মুরগি বিক্রি করেছিলাম কিন্তু এই রাস্তায় কাদা মাটি ফেলার কারণে মুরগি কেনার গাড়ি আসতে পারছে না। কয়েকটি অটো ভ্যানে করে এক কিলোমিটার দূরে ২-৩ হাজার মুরগি নিয়ে গাড়িতে পৌঁছে দেই। এতে প্রায় ১০-১৫ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। পাশের গ্রামের অনেক খামারি রয়েছেন তাদেরও একই অবস্থা। 

বিরল গ্রামের হাসের বাচ্চা ফোটানো হ্যাচারি মালিক বলেন, এক মাস যাবত ওই রাস্তা দিয়ে হাঁসের বাচ্চা নেয়ার গাড়ি আসতে পারছে না। মহাবিপদে আছি। 

এলাকাবাসীর দাবি, নওগাঁ বাজার-হামকুড়িয়া রাস্তা সঠিকভাবে মেরামত ও পাকার কাজ করা হোক। এ ব্যপারে তাড়াশ উপজেলার পিআইওর সঙ্গে মোবাইলে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি। 

নিউজ সোর্স : রাস্তা মেরামতে কাদা মাটি, চরম দুর্ভোগ

Leave A Reply

Your email address will not be published.