মিথ্যা মামলার ফাঁদে ফেলে ৭৬ বছরের বৃদ্ধকে হয়রানির অভিযোগ

- Advertisement -

নিজস্ব প্রতিবেদক
মাদক সেবনকারী, সাজাপ্রাপ্ত আসামী ও ভূমি দস্যুরা মিলে এক ব্রাহ্মণের জমি দখল করে জোরপূর্বক মন্দির নির্মাণের পাঁয়তারা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। শুধু জমি দখলই নয় ৭৬ বছরের ওই ব্রাহ্মণ বৃদ্ধসহ তার তিন ছেলের বিরুদ্ধে শিব লিঙ্গ আত্মসাতের মামলা দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে বলে জানা গেছে। এ ঘটনাটি ঘটেছে গাইবান্ধা জেলার সাদুল্ল্যাপুর উপজেলার দক্ষিণ মান্দুয়ার গ্রামে।

জানা গেছে, সাদুল্ল্যাপুরের দক্ষিণ মান্দুয়ার গ্রামের অনিল চন্দ্র চক্রবর্তীর পুত্র উজ্জল চক্রবর্তির সাথে প্রতিপক্ষ অনিল চন্দ্র সরকারের সাথে জমি জমার নিয়ে আগে থেকে মামলা মোকদ্দমা চলে আসছিল। উজ্জল চক্রবর্তীর গাছ চুরির ঘটনায় প্রতিপক্ষ প্রভাত চন্দ্র অধিকারী, নকুল চন্দ্র মলাকার, চন্দন মলাকার, শ্রীদাম মহন্তের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত সিআর ২৯২/১৪ নং মামলায় আদালত তাদেরকে সাঁজা দেয়। এতে উজ্জল চক্রবর্তী ও তার পরিবারের উপর প্রতিপক্ষ ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে। এক পর্যায়ে অনিল চন্দ্র , হৃদয় চন্দ্র অধিকারী, সুবোল চন্দ্র মহন্ত, মানিক চন্দ্র মহন্ত, প্রদীপ চন্দ্র মহন্ত, নকুল চন্দ্র মলাকারসহ বেশ কয়েকজন একত্রিত হয়ে ব্রাহ্মণ অনিল চক্রবর্তীদের রেকর্ডভূক্ত জমি জোরপূর্বক দখল করে কাল্পনিক মন্দির সৃষ্টি করে। শুধু তাই নয়, মন্দিরের ভূয়া কমিটি তৈরী করে প্রতিপক্ষ।

মন্দিরের নির্মাণের চেষ্টার পাশাপাশি ৭৬ বছরের বৃদ্ধ ব্রাহ্মণ অনিল চক্রবর্তীকেসহ তার ছেলে উজ্জল চন্দ্র চক্রবর্তী, প্রনব চক্রবর্তী ও শয়ন চক্রবর্তীর নামে শিব লিঙ্গ আতœসাতের মামলা দায়ের করেন। এধরণের হয়রানিমূলক মামলা রেকর্ড ও জমি দখলে স্থানীয় কয়েকজন প্রভাবশালী হিন্দুর্ধমীয় নেতা ও পূজা উদযাপন কমিটির কয়েকজন সরাসরি সহযোগিতা এবং ইন্ধন জুগিয়ে যাচ্ছে বলেও জানা গেছে।

এদিকে ওই ঘটনায়, বাংলাদেশ মাইনোরটি ওয়ার্চ দিনাজপুর চেপ্টার নামক একটি সংস্থা সরেজমিন তদন্ত শেষে গাইবান্ধার অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের কাছে একটি লিখিত প্রতিবেদন জমা দেয়। ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, শিব লিঙ্গন আত্মসাত মামলার বাদী অনিল সরকার একজন মাদক আসক্ত। সে ২০১৫ থেকে ২০১৬ সালে রংপুর ¯েœহা মাদকাসক্ত নিরাময় কেন্দ্রে এবং বগুড়া জেলার অনুরুপ কেন্দ্রে ভর্তি ছিল। তার নামে মাদক মামলা চলমান আছে। অধিকাংশ স্বাক্ষীরা গাছ চুরির সাজা প্রাপ্ত আসামী ও মামলার ৩নং স্বাক্ষী মানিক চন্দ্র মাদক মামলায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কর্তৃক সাজা প্রাপ্ত। তার নামেও ইয়াবা মামলা চলমান আছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, যে জমিটিতে মন্দিও নির্মাণের দাবী করা হচ্ছে সে জায়গাটি এক সময় জঙ্গল ছিল। অনিল চক্রবর্তীর পরিবার দূর্বল হওয়ায় এলাকার কিছু ভূমি দস্যু, চাঁদাবাজ, মাদক সেবককারী ও মাদক ব্যবসায়ী একত্রিত হয়ে মন্দিরের নামে ব্যক্তিগত জায়গা দখল করে মিথ্যা শিব লিঙ্গ আত্মসাত মামলার নাটক সাজিয়ে একটি পরিবারকে হয়রানী করছে।

এদিক বৃদ্ধ ব্রাহ্মণের ছেলে উজ্জল চন্দ্র চক্রবর্তী জানান, সাজাপ্রাপ্ত আসামী শ্রীদাম মহন্তের ভ্রাতা দীজেন্দ্র নাথ মহন্ত গাইবান্ধা এসপি অফিসের কর্মচারী হওয়ার সুবাধে তিনি সাদুল্যাপুর থানায় তার প্রভাব বিস্তার করে মিথ্যা মামলাটি রের্কড করিয়েছেন। শুধু তাই নয় বিভিন্ন সময় নানাভাবে হয়রানিও করে যাচ্ছে।

এ বিষয়ে গাইবান্ধা পুলিশ সুপার কার্যালয়ের অফিস সহকারী দ্বিজেন্দ্র নাথ মহন্ত বলেন, আমি এসব বিষয়ে কিছুই জানি না। তার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ তোলা হয়েছে। আর মামলার বাদী অনিল সরকার বলেন, আমরা কারো জমি জোরপূর্বক দখল করেনি। বরং বৃদ্ধ ব্রাহ্মণ অনিল চক্রবর্তী ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে অন্যের জমি নিজের নামে রেকর্ড করে নিজের ভোগদখলে রেখেছেন।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

Leave A Reply

Your email address will not be published.