‘মিথ্যা প্রলোভনে দেশের বাইরে গিয়ে ২ লাখ নারী পতিতাবৃত্তিতে জড়িয়েছে’

নারী মৈত্রীর মতবিনিময়ে বক্তারা

- Advertisement -

নিজস্ব প্রতিবেদক
বিগত ২০০৩ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত এক দশকে অন্তত ২ লাখ নারী মিথ্যা প্রলোভনের শিকার হয়ে প্রতিবেশি দেশগুলোতে গিয়ে পতিতাবৃত্তিতে জড়িয়ে পড়েছে বলে জানিয়েছে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা নারী মৈত্রী।

বৃহস্পতিবার দুপুরে রংপুর রিপোর্টার্স ক্লাব মিলনায়তনে মানব পাচার রোধ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় এ তথ্য জানান সংস্থাটির প্রকল্প সমন্বয়কারী মোমেনুল হক মোমেন।

বাংলাদেশ পুলিশের তথ্য দিয়ে সংস্থাটির প্রকল্প সমন্বয়কারী বলেন, ২০০১ সালে মানবপাচার সম্পর্কিত অপরাধের ঘটনা ঘটেছে ৭ হাজার ৯০৪টি। গত এক দশকে ১১ হাজার ৮৭৬টি তে গিয়ে দাঁড়িয়েছে। আর প্ল্যান বাংলাদেশের তথ্য মতে, ২০০৩ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত অন্তত ২ লাখ নারী মিথ্যা প্রলোভনের শিকার হয়ে প্রতিবেশি দেশগুলোতে গিয়ে পতিতাবৃত্তিতে জড়িয়ে পড়েছে।

বাংলাদেশ পুলিশ ও ইউএনডিপি’র উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি জানান, দেশের প্রত্যেকটি সীমান্তবর্তি জেলা মানবপাচারের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। এসব জেলা থেকে বেশির ভাগই প্রাথমিকভাবে বড় শহরগুলোতে আসে। সেখান থেকেই বিভিন্ন এলাকাতে নতুবা পাচার হয়ে দেশের বাহিরে চলে যায়। এদেরকে পতিতাবৃত্তি, বাসা-বাড়ির কাজে ও ভিক্ষাবৃত্তিসহ বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, ২০০১ সালে মানবপাচার সম্পর্কিত অপরাধের ঘটনা ঘটেছে ৭ হাজার ৯০৪টি। গত এক দশকে ১১ হাজার ৮৭৬টি তে গিয়ে দাঁড়িয়েছে। আর প্ল্যান বাংলাদেশের তথ্য মতে, ২০০৩ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত অন্তত ২ লাখ নারী মিথ্যা প্রলোভনের শিকার হয়ে প্রতিবেশি দেশগুলোতে গিয়ে পতিতাবৃত্তিতে জড়িয়ে পড়েছে।

গত এক দশকে কতজন শিশু পাচার হয়েছে, তার তথ্য বিক্ষিপ্তভাবে সংরক্ষিত হলেও সমষ্টিক কোন তথ্য প্রকাশ না পাওয়ায় শিশু পাচারের সঠিক সংখ্যা জানা যায়নি বলেও জানান নারী মৈত্রীর এই কর্মকর্তা।

তিনি বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, ভূমিষ্ট শিশুও পাচার হয়। তাদের কিডনি পাচার হয়। কিন্তু সেক্ষেত্রে কোন রিপোর্ট হয় না। এক রিপোর্টে দেখা গেছে, বাংলাদেশে যত শিশু মিসিং বা ট্রাফিকিং এর ঘটনা ঘটেছে তার মধ্যে শতকরা ২৭ ভাগ দৈনিক পত্রিকা ও অনলাইন মাধ্যমে এবং টেলিভিশন মিডিয়াতে ১২ ভাগ রিপোর্ট প্রকাশ পায়।

মানবপাচার প্রতিরোধ ও দমন আইন ২০১২ তে নবজাতকদের মিসিংয়ের কোন তথ্য কোথাও উল্লেখ নেই। মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণায়ন ও সাম্প্রতিক বিভিন্ন সংগঠনগুলো কাজ করলেও তাদের মধ্যে যথেষ্ট সমন্বয়ের অভাবসহ ভিকটিমদের অভিযোগ তালিকাও নেই বলেও সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।

এ সময় মানবপাচার রোধসহ শিশুকে মানবসম্পদ হিসেবে বেড়ে উঠার পরিবেশ নিশ্চিত করতে মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমনে জাতীয় কর্মপরিকল্পনা ২০১৮-২০২২ বাস্তবায়ন, মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইন ২০১২ বাস্তবায়ন, প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিত মনিটরিং, শিশুপাচার রোধ ও শিশু সুরক্ষায় দায়িত্বশীলদের ভূমিকা এবং শিশু সুরক্ষা নীতিমালা বাস্তবায়ন ও প্রচলিত বিচার ব্যবস্থায় শিশুবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টির জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানান।

প্রিভেনশন অফ চাইন্ড ট্রাফিকিং থ্রু স্ট্রেনদেনিং কমিউনিটি এন্ড নেটওয়ার্কিং প্রকল্পের আওতায় নারী মৈত্রী এই সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, রিপোর্টার্স ক্লাবের সভাপতি আব্দুল হালিম আনছারী, সিনিয়র সহ-সভাপতি অধ্যাপক মোজাফফর হোসেন, সাধারণ সম্পাদক শাহ্ বায়েজীদ আহম্মেদ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ফরহাদুজ্জামান ফারুক, দপ্তর সম্পাদক এনামুল হক, প্রচার সম্পাদক হারুন-অর-রশিদ, কার্যনির্বাহী সদস্য মিজানুর রহমান লুলু, নারী মৈত্রীর রংপুর প্রতিনিধি এ্যাডভোকেট গোলাম মওলা চৌধুরী প্রমুখ।

নারী মৈত্রী চলতি বছরে বিভিন্ন সময়ে রংপুর মহানগরসহ জেলার বিভিন্ন উপজেলাতে প্রশাসনের বিভিন্ন উর্ধ্বতন কর্মকর্তা, আইনজীবী, জনপ্রতিনিধি, সমাজ উন্নয়নকর্মী, স্বেচ্ছাসেবি, সুধি সমাজের নেতৃবৃন্দসহ গণমাধ্যম কর্মীদের সাথে মতবিনিময়, সেমিনার, কর্মশালা ও সমসাময়িক বিষয়ে আলোচনা অনুষ্ঠান করেছে।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

Leave A Reply

Your email address will not be published.