মিঠাপুকুরে চায়না লেবু চাষ করে স্বাবলম্বী এক কৃষক পরিবার

- Advertisement -

নিজস্ব প্রতিবেদক:
রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার ১৬নং মির্জাপুর ইউনিয়নের ভগবতীপুর মধ্যপাড়া গ্রামের আদিবাসী কৃষক শ্রী সুভাষ চন্দ্র উড়া। তিনি তার জমিতে চায়না লেবু চাষ করে এখন অনেকটাই স্বাবলম্বী। আর তাকে এই কাজে সহযোগিতা করছেন ওই এলাকার অন্য এক কৃষক।

সরেজমিনে বাগানে গিয়ে জানা যায়, শ্রী সুভাষ চন্দ্রের নিজস্ব চায়না লেবুর বাগানের ভিতরে পেপেঁর বাগান রয়েছে। ৫৮ শতক জমিতে লেবুর বাগান ও পেপেঁর বাগান থেকে প্রতি সপ্তাহে আয় হয় ১০ হাজার টাকা থেকে ১২ হাজার টাকা। এছাড়াও তার বাগান থেকে বেশ কয়েজন মজুরিও করতে পারে। পেঁপে ও লেবুর বাইরে শীতে বিশেষ পদ্ধতিতে টমেটোর আবাদেরও পরিকল্পনাও করছেন তিনি।

শ্রী সুভাষ চন্দ্র উড়াও জানান, আমি আগে ওই জমিতে বেগুন চাষ করে আসছিলাম। স্থানীয় গ্রামের এক কৃষক মনজুরুল ইসলাম তার নিজস্ব জমিতে একটি লেবুর বাগান ছিল। আর সেই বাগান থেকে লেবুর চারাও বিক্রয় করা হতো। মঞ্জুরুল ইসলাম আমাদের বাড়িতে যাতায়তা করার সুবাদে চায়না লেবু চাষ করার পরামর্শ দেন। আমি তার পরামর্শ অনুযায়ী আমার নিজস্ব জমিতে লেবু চারা ও পেপেঁর চারা রোপণ করি। রোপনকৃত বাগানের জমির পরিমাণ ৫৮ শতক, জমিতে ২‘শ ৫০টি লেবু চারা রোপন করা হয়েছে। লেবু চারা রোপনের বয়স হচ্ছে ১ বছর ১০ মাস ।

তার সাথে আলাপ করে জানা যায়- লেবুর বাগান থেকে প্রতি সপ্তাহে ৫ থেকে ৬ হাজার টি লেবু তুলে রংপুর শহরে বিক্রয় করেন তিনি। সেই চায়না লেবুর বাগান ও পেপেঁর বাগান থেকে প্রতি সপ্তাহে আয় হয় ১০ হাজার টাকা থেকে ১২ হাজার টাকা পর্যন্ত। প্রতি সপ্তাহে তেলার সময় ২ থেকে ৩ জন কৃষাণ-কৃষাণীরা কাজ করে এবং প্রতি ২ থেকে ৩ মাস পরপর ১০ থেকে ১২ জন কৃষক চায়না লেবুর বাগান ও পেপেঁর বাগানে কর্ম ব্যস্ত কিষাণ-কিষাণীরা ১ দিন খাওয়া-দাওয়াসহ পারিশ্রমিক পাচ্ছেন ২’শ ৫০ থেকে ৩ শত টাকা করে।

শ্রী সুভাষ চন্দ্র উড়াও আরও জানান, আমার বাগানে লেবুর চারা পাশাপাশি পেপেঁ চারাও রোপন করা হয়েছে । প্রতি মাসে মাসে ২ থেকে ৩ মণ পেপেঁ বাজারে বিক্রয় করে থাকি। এবার শীতে ওই বাগানে বিকল্প পদ্ধতিতে টমেটো চাষ করার পরিকল্পনা করছি। এই লেবুর বাগান থেকে আমার পরিবার স্বাবলম্বী হয়ে ভবিষৎতের স্বপ্ন বাস্তবায়ন করে সুন্দর জীবন যাপন ও উন্নয়নের ছোয়াঁ নেমে আসবে বলে আমি আশা করি।

এদিকে শ্রী সুভাষ চন্দ্র উড়ায়ের লেবুর বাগান থেকে উৎসাহিত হচ্ছেন এলাকার অন্যান্য কৃষকরাও। শ্রী সুভাষ জানান, আমার জমির পাশে আমার ভাই রবিন চন্দ্র উড়াও ৫৮ শতক জমিতে একই পরিমান লেবুর চারা রোপন করেন। তারও ভালো আবাদ হবে বলে আমি আশাবাদী।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

Leave A Reply

Your email address will not be published.