ভালোবাসা ও ত্যাগ হোক রাজনীতির শক্তি

ভালোবাসা ও ত্যাগ হোক রাজনীতির শক্তি

সমাজের সব স্তরে এখন রাজনীতির প্রভাব দৃশ্যমান। অনেকে বলেন রাজনীতি ছাড়া মানুষ, মানুষ ছাড়া রাজনীতি অর্থহীন। কারণ তথকথিত নিরপেক্ষতাও এক ধরনের রাজনীতি। সেটা কেউ স্বীকার করুক বা না করুক। তবে আনাড়ি ও অতি রাজনীতির ফল বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ভয়ঙ্কর। 

রাজনীতির একটা নীতি আছে, যদিও অনেকে বলবেন সময় যত গড়িয়েছে রাজনীতি তত নীতির খোলস থেকে বের হয়ে এসে আর রাজনীতি থাকেনি, বরং সেটা সুবিধাবাদিতা ও স্বার্থপরতায় রূপান্তরিত হয়েছে। সেটা রাজনীতির দোষ নয়, যারা রাজনীতির উপর আধিপত্য বিস্তার করে রাজনীতিকে অপরাজনীতিতে পরিণত করেছে তাদের দোষ।   

জন্মের পর থেকেই মানুষ রাজনীতি দ্বারা প্রভাবিত হয়। সেটা ধীরে ধীরে মানুষের মধ্যে আরও গভীর হতে থাকে। এক সময় সেটা মানুষের জীবনের একটা অন্যতম উপাদানে পরিণত হয়। এমন রাজনীতি যে দেশ ও ক্ষমতাকেন্দ্রিক হবে তা নয়। এ ধরনের রাজনীতি ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ ও প্রতিষ্ঠান কেন্দ্রিকও হতে পারে। রাজনীতির ধরণগত বৈচিত্র্য থাকলেও সব স্তরের রাজনীতির ক্ষেত্রে ইতিবাচকতার প্রভাব থাকাটা বেশি দরকার। যাতে করে সেটা মানুষের রাজনীতি হয়, রাজনীতির মানুষ না হয়। 

রাজনীতি সংক্রান্ত জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কিছু বাণী আমাদের সঠিক পথ দেখাতে সক্ষম। যেমন তিনি বলেছেন: “অযোগ্য নেতৃত্ব, নীতিহীন নেতা ও কাপুরুষ রাজনীতিবিদদের সাথে কোন দিন একসাথে হয়ে দেশের কাজে নামতে নেই। তাতে দেশসেবার চেয়ে দেশের ও জনগণের সর্বনাশই বেশি হয়।”

“সাংস্কৃতিক স্বাধীনতা ছাড়া রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্বাধীনতা অর্থহীন। তাই মাটি ও মানুষকে কেন্দ্র করে গণমানুষের সুখ, শান্তি ও স্বপ্ন এবং আশা-আকাঙ্ক্ষা অবলম্বন করে গড়ে উঠবে বাংলার নিজস্ব সাহিত্য-সংস্কৃতি।”

“রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানের চারটি জিনিসের প্রয়োজন, তা হচ্ছে; নেতৃত্ব, ম্যানিফেস্টো বা আদর্শ, নিঃস্বার্থ কর্মী এবং সংগঠন।”

“বাংলার উর্বর মাটিতে যেমন সোনা ফলে, ঠিক তেমনি পরগাছাও জন্মায়! একইভাবে, বাংলাদেশে কতকগুলো রাজনৈতিক পরগাছা রয়েছে, যারা বাংলার মানুষের বর্তমান দুঃখ-দুর্দশার জন্য দায়ী।”
“মানুষ চায় কী জীবনে? কেউ চায় অর্থ, কেউ চায় শক্তি, কেউ চায় সম্পদ, কেউ চায় মানুষের ভালোবাসা। আমি চাই মানুষের ভালোবাসা।”

“আমি সব ত্যাগ করতে পারি, তোমাদের ভালোবাসা আমি ত্যাগ করতে পারি না।”

“সাত কোটি বাঙ্গালির ভালোবাসার কাঙ্গাল আমি। আমি সব হারাতে পারি, কিন্তু বাংলাদেশের মানুষের ভালোবাসা হারাতে পারব না।”

মানুষের জন্য ত্যাগ ও ভালোবাসার নাম রাজনীতি। সব ধরনের সম্প্রীতি ও উদার মানবিকতার নাম রাজনীতি। আপন সাহিত্য-সংস্কৃতি চর্চার মাধ্যমে সৃজনশীলতার নাম রাজনীতি যেখানে সুচিন্তা মানুষের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক শক্তিকে একীভূত করবে। যে কোনো পর্যায়ের রাজনীতির জন্য নীতি, আদর্শ, সাহস ও যোগ্যতা থাকা দরকার। সততা, দেশপ্রেম ও জীবনবোধ থাকা দরকার।

(ফেসবুক থেকে সংগৃহীত)

বিডি প্রতিদিন/আরাফাত

নিউজ সোর্স : ভালোবাসা ও ত্যাগ হোক রাজনীতির শক্তি

Leave A Reply

Your email address will not be published.