ব্যবসা মন্দা, শেফার্ডের শেয়ারদর তবু বাড়ছে কেন?

পুঁজিবাজারের তালিকাভুক্ত বস্ত্র খাতের কোম্পানি শেফার্ড ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের চলছে মন্দা ব্যবসা। চলতি অর্থবছরের তিনটি আর্থিক প্রতিবেদন থেকে দেখা গেছে কোম্পানিটির ক্রমাগত লোকসান বেড়েই চলেছে। অথচ শেয়ারবাজারে এই প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দামে অস্বাভাবিক ঊর্ধ্বগতি। গত দেড় মাসে কোম্পানিটির শেয়ার দর বেড়েছে ৩৭ শতাংশ। কেন বাড়ছে বিপুল লোকসানি কোম্পানিটির শেয়ারের দর?

কোম্পানিটির প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, গত জুনে সমাপ্ত বছরে তাদের শেয়ার প্রতি লোকসান ছিল ১৫ পয়সা। এবার তৃতীয় প্রান্তিকে শেয়ারপ্রতি লোকসান হয়েছে ৭৯ পয়সা।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্রে জানা গেছে, গত মে মাসের ২৯ তারিখে কোম্পানিটির শেয়ার দর ছিল ১০.৮০ টাকা। গত দেড় মাসে ক্রমাগত বেড়ে এখন অবস্থান করছে ১৪.৮০ টাকায়।

কোম্পানিটির আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, চলতি অর্থবছরে তিন প্রান্তিকে কোম্পানিটির টার্নওভার হয়েছে ১৭১ কোটি চার লাখ ৭০ হাজার টাকা। এই সময়ে কোম্পানিটির লোকসান হয়েছে ১১ কোটি ৮০ লাখ ১০ হাজার টাকা। একই সময়ে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি লোকসান হয়েছে ৭৯ পয়সা। এই সময়ে কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি সম্পদমূল্য (এনএভি) দাঁড়িয়েছে ১৪ টাকা ৯১ পয়সা।

কোম্পানিটির ক্রমাগত এমন লোকসান বৃদ্ধি এবং ব্যবসা মন্দার পরও পুঁজিবাজারে কোম্পানিটির শেয়ারদর বৃদ্ধিতে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে রয়েছে কৌতূহল।

এ বিষয়ে জানতে কোম্পানিটির সেক্রেটারি আবু জাফরের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি ঢাকা টাইমসকে বলেন, ‘আমি শেফার্ড ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড থেকে চাকরি ছেড়ে দিয়েছি এক মাস হয়েছে। কিন্তু কোম্পানিটির ওয়েবসাইটে এখনো কোম্পানি সেক্রেটারির নাম পরিবর্তন করা বা খালি রাখা হয়নি।’

শেফার্ড ইন্ডাস্ট্রিজের চিফ ফাইন্যানশিয়াল অফিসারের (সিএফও) সঙ্গে যোগযোগ করার চেষ্টা করে তাকে পাওয়া যায়নি।

কোম্পানিটির গত বছরের আর্থিক প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, কোম্পানিটি গত বছরে এক শতাশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা দেয়। সেবার কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি লোকসান ছিল ১৫ পয়সা।

এমন মন্দা ব্যবসার পরিস্থিতিতে কোম্পানিটি থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা। কোম্পানিটির শেয়ারে বিনিয়োগকারীদের শ্রেণি বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, ২০২০ সালে কোম্পানিটির ১৮.৭৫ শতাংশ শেয়ার বিদেশি বিনিয়োগকারীদের কাছে ছিল। বর্তমানে তা কমে অবস্থান করছে ১৮.৪০ শতাংশে। কমছে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের শেয়ারও। ২০২০ সালে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে কোম্পানিটির মালিকানা ছিলো ১২.০৬ শতাংশ, বর্তমানে তা কমে অবস্থান করছে ১২.০১ শতাংশে।

তবে শেয়ারমূল্য অস্বাভাবিক বৃদ্ধিতে প্রলুব্ধ হয়ে বেড়েছে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের মালিকানা। ২০২০ সালে কোম্পানিটির মালিকানায় সাধারণ বিনিয়োগকারী ছিল ১৭.৭১ শতাংশ, বর্তমানে তা ১৮.১১ শতাংশে অবস্থান করছে।

বর্তমানে কোম্পানিটির দীর্ঘমেয়াদি কোনো ঋণ না থাকলেও রয়েছে স্বল্পমেয়াদি ঋণের পরিমাণ ১৭৬ কোটি ৪২ লাখ ৪০ হাজার টাকা।

১৯০ কোটি টাকা অনুমোদিত মূলধনের এই কোম্পানির পরিশোধিত মূলধন ১৫০ কোটি ২৮ লাখ ৯০ হাজার টাকা। বর্তমানে কোম্পানিটির মোট শেয়ারসংখ্যা ১৫ কোটি দুই লাখ ৮৯ হাজার ২৪৩। কোম্পানিটির ওআইসি ব্যতীত রিজার্ভ এবং উদ্বৃত্ত রয়েছে ৮৭ কোটি সাত লাখ টাকা।

কোম্পানিটি ২০১৭ সালে প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) মাধ্যমে পুঁজিবাজার থেকে অর্থ উত্তোলন করে। ১০ টাকা অভিহিত মূল্যে শেয়ার ইস্যু করে দুই কোটি সাধারণ শেয়ার ছেড়ে ২০ কোটি টাকা সংগ্রহ করে। উত্তোলিত টাকা কোম্পানিটি ব্যাংক ঋণ পরিশোধ ও ওয়াশিং প্লান্ট ভবন নির্মাণ, সম্প্র্রসারণ, মেশিন ও সরঞ্জাম ক্রয়, ইটিপি সম্প্রসারণ এবং আইপিও বাবদ ব্যয় করে। শেফার্ড ইন্ডাস্ট্রিজের কারখানা হচ্ছে ময়মনসিংহের ভালুকায়।

শেফার্ডের ব্যবসা কী?

বস্ত্র খাতের এই কোম্পানিটি উৎপাদন করে কটন ইয়ার্ন ডাইং, একরিলিক ইয়ার্ন ডাইং, গার্মেন্ট পিস ডাইং, ১০০ শতাংশ নিলন ডাইং এবং গার্মেন্টস ওয়াশ। আর কোম্পানিটির এসব পণ্যের প্রধান গ্রাহক ওয়ালমার্ট, প্রাইমার্ক, সিঅ্যান্ডএ, এইচঅ্যান্ডএম, টেসকো, জিএপিসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান।

শেফার্ড ইন্ডাস্ট্রিজ শেফার্ড গ্রুপের একটি অঙ্গপ্রতিষ্ঠান। এ গ্রুপের অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে শেফার্ড ইয়ার্ন লিমিটেড (এসওয়াইএল), শেফার্ড টেক্সটাইল বাংলাদেশ লিমিটেড ও তাইওয়ান ফুট প্রসেসিং লিমিটেড।

কোম্পানির তথ্যানুযায়ী, ২০০১ সালের ১৮ অক্টোবর বাণিজ্যিক উৎপাদনে যায় শেফার্ড ইন্ডাস্ট্রিজ।

(ঢাকাটাইমস/২১জুন/এসআই/মোআ)

নিউজ সোর্স : ব্যবসা মন্দা, শেফার্ডের শেয়ারদর তবু বাড়ছে কেন?

Leave A Reply

Your email address will not be published.