ব্যবসায় ধস, তবুও ইউনিক হোটেল শেয়ার দর কেন ঊর্ধ্বমুখী?

মহামারী করোনাভাইরাসে এক বছরের বেশি সময় ধরে ব্যবসা প্রায় নেই বললেই চলে ইউনিক হোটেল অ্যান্ড রিসোর্টস লিমিটেডের। তবে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত এই কোম্পানির শেয়ার দর বেড়ে চলেছে। পুঁজিবাজারের তালিকাভুক্ত ট্রাভেল অ্যান্ড লাইসেন্স খাতের এই কোম্পানিটির সবশেষ আর্থিক প্রতিবেদন পযালোচনা করে এ তথ্য পাওয়া গেছে।

তথ্যানুসন্ধানে দেখা গেছে, দেশে গত বছরের মার্চে মহামারী করোনাভাইরাসের প্রকোপ শুরু হওয়ার পর থেকে দেশে পর্যটন খাত বন্ধ। ফলে লোকসান করে আসছে ইউনিক হোটেল অ্যান্ড রিসোর্টস লিমিটেড। তবে পুঁজিবাজারে তাদের শেয়ার দর কিছু দিন ধরে বেড়ে চলেছে।

২০২০ সালে করোনা মহামারীর কারণে দেশের পুঁজিবাজারে বড় ধরনের ধস নামে। সেই ধস ঠেকাতে ফ্লোর প্রাইস নির্ধারণ করে তৎকালীন কমিশন। করোনার প্রথম দিকে কোম্পানিটির শেয়ার দর ছিলো ৫১.২০ টাকা। তবে তা নেমে আসে ৩৬.৭০ টাকায়। পরবর্তিতে কোম্পানিটির শেয়ার দর ৩৯.৫০ টাকা ফ্লোর প্রাইসে দীর্ঘদিন অবস্থান করে।

গত এপ্রিল মাসে যখন নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ আন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) ৬৬ কোম্পানির ফ্লোর প্রাইস তুলে দেন। সেই ৬৬টি কোম্পানির মধ্যে আছে ইউনিক হোটেল অ্যান্ড রিসোর্ট লিমিটেড।

এরপর কোম্পানিটির শেয়ার দর আরও কমতে থাকে। জুন মাসের ৮ তারিখে তাদের শেয়ার দর নামে ৩১.২০ টাকায়। তবে এরপর থেকে কোম্পানিটির শেয়ারের দর বাড়তে শুরু করেছে।

এছাড়া কোম্পানিটির চলতি বছরের তিনটি প্রতিবেদন পযালোচনা করলে দেখা যায়, গত বছরের জুলাই থেকে চলতি বছরের মার্চ পর্যন্ত নয় মাসে শেয়ার প্রতি লোকসান হয়েছে ১৯ পয়সা। কিন্তু আগের অর্থবছরের একই সময়ে কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি আয় (ইপিএস) ছিলো এক টাকা ১৯ পয়সা।

এদিকে সবশেষ তিন মাসে (জানুয়ারি-মার্চ) কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি লোকসান হয়েছে ১১ পয়সা। কিন্তু আগের অর্থবছরে একই সময়ে শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছিল ১৭ পয়সা। চলতি বছরের নয় মাসে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি সম্পদ (এনএভি) দাঁড়িয়েছিলো ৭৯ টাকা ০৯ পয়সা।

এছাড়া ২০২০ সালের তুলনায় কোম্পানিটির কমেছে বিদেশি বিনিয়োগ। ২০২০ সালে তাদের বিদেশী বিনিয়োগকারী ছিলো ১.২৫ শতাংশ। এটি বর্তমানে ০.৬৯ শতাংশে অবস্থান করছে।

তবে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে কোম্পানিটির শেয়ারের সংখ্যা কিছুটা বেড়েছে। ২০২০ সালে তাদের শেয়ার সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে ছিলো ১৪.৭৪ শতাংশ। কিন্তু তা বর্তমানে অবস্থান করছে ১৪.৭৫ শতাংশে।

বেড়েছে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে কোম্পানিটির শেয়ারের সংখ্যা। ২০২০ সালে প্রতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে ছিলো ৩১.৭৮ শতাংশ। যা বর্তমানে অবস্থান করছে ৩২.৩৩ শতাংশে। আর স্পন্সরদের কাছে রয়েছে ৫২.২৩ শতাংশ শেয়ার।

বর্তামনে কোম্পানিটির স্বল্প মেয়াদী ঋণ রয়েছে ২০৩ কোটি ১৯ লাখ ৩০ হাজার টাকার। আর দীর্ঘ মেয়াদী ঋণ রয়েছে ৩২৬ কোটি ৫১ লাখ টাকা। বর্তমানে কোম্পানিটির পিই রেশিও অবস্থান করছে ৩৯.৫৮ শতাংশে।

বর্তমানে কোম্পানিটির বাজার মূলধন রয়েছে এক হাজার ছয় কোটি ৮৪ লাখ ৮০ হাজার টাকা। অনুমোধিত মূলধন রয়েছে ১০০০ কোটি টাকা। আর পরিশোধিত মূলধন রয়েছে ২৯৪ কোটি ৪০ লাখ টাকা। কোম্পানিটির মোট শেয়ারের সংখ্যা রয়েছে ২৯ কোটি ৪৪ লাখ। কোম্পানিটির ওআইসি ব্যতীত রিজার্ভ এবং উদ্বৃত্ব রয়েছে এক হাজার ৪৩৩ কোটি ২৩ লাখ টাকা। ২০২০ সালে কোম্পানিটি শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ১০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করে।

জানা গেছে, বিদেশি বিনিয়োগকারীরা যখন কোম্পানিটির শেয়ার বিক্রি করে দিচ্ছে ঠিক তখন বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা। কম দামের শেয়ারে দীর্ঘ মেয়াদী বিনিয়োগ করতে তার থেকে বেশি রিটার্ণ পাওয়া যায়। সেই কারণেই কোম্পানিটির শেয়ারে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কেউ কেউ ইউনিকের শেয়ার কিনছে। আর এটিই দর বাড়ার একটি কারণ হতে পারে।

প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, করোনার প্রভাব কিছুটা কমলেই পর্যটন খাত আবার খুলে দেওয়া হবে। তখন কোম্পানিগুলোর মুনাফা বাড়বে। এতে করে বাড়বে কোম্পানিগুলোর শেয়ারের দর। তখন এখান থেকে ভালো মানের রিটার্ণ আশা করা যায়।

এ বিষয়ে হোটেল অ্যান্ড রিসোর্টস লিমিটেডের সেক্রেটারী শরীফ হাসান এবং চীফ ফাইন্যান্স অফিসার (সিএফও) সঙ্গে বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

(ঢাকাটাইমস/২০জুন/এসআই/ডিএম)

নিউজ সোর্স : ব্যবসায় ধস, তবুও ইউনিক হোটেল শেয়ার দর কেন ঊর্ধ্বমুখী?

Leave A Reply

Your email address will not be published.