বিজেপিকে ক্ষমতাচ্যুত করতে বিরোধী দলগুলোকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার ডাক মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের

পশ্চিম বঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কলকাতায় এক সমাবেশে বক্তব্য দিচ্ছেন। ফাইল ফটো – এপি

আজ ২১শে জুলাই শহিদ দিবস উপলক্ষে ভাষণ দিতে গিয়ে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিজেপিকে ক্ষমতাচ্যুত করার জন্য সমস্ত বিরোধী দলকে এক হতে ডাক দিয়েছেন।

কোভিড নীতি অনুযায়ী প্রতি বছরের মতো এবছর তিনি শহিদ দিবসে বিশাল জনসভার আয়োজন করেননি। তার বদলে কালীঘাটে ভার্চুয়াল সভায় ভাষণ দিয়েছেন। সেই ভাষণ শুধু কলকাতায় বা পশ্চিমবঙ্গে নয়, শোনা গিয়েছে ভারতের বহু রাজ্যে।

রাজধানী দিল্লিতে জায়েন্ট স্ক্রিন ব্যবহার করে তাঁর বক্তৃতা শোনানো হয়েছে। দিল্লিতে বিরোধীদলের নেতাদের অনেকেই তা শুনেছেন।

বেশ কিছুদিন ধরেই দেশে একটা বিরোধী হাওয়া টের পাওয়া যাচ্ছে, যাতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের লড়াকু চরিত্রকে ব্যবহার করে বিজেপি বিরোধী একটা ঐক্যমঞ্চ গড়ে তোলার চেষ্টা চলছে। তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী এম স্ট্যালিন থেকে শুরু করে মহারাষ্ট্রের ন্যাশনাল কংগ্রেস প্রধান শরদ পাওয়ার এবং আরো বহু নেতা মমতার পাশে দাঁড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

তাতে উৎসাহিত হয়ে আজ মমতা বলেছেন, “ভারতে গণতন্ত্র এই বিজেপি সরকারের হাতে বিপন্ন। গণতন্ত্রের প্রধান তিনটি স্তম্ভ, সংবাদমাধ্যম, বিচারব্যবস্থা ও নির্বাচন কমিশন, এই তিনটিই গোয়েন্দা অ্যাপ পেগাসাস দিয়ে দখল করে ফেলা হয়েছে। আমাদের কারো কোনো কথা বলা নিরাপদ নয়। কী বলছি সবাই জেনে যাচ্ছে। আমি আমার মোবাইল ফোন প্লাস্টার দিয়ে জড়িয়ে রেখেছি। এবার আসুন বিজেপি সরকারকেও প্লাস্টার দিয়ে জড়িয়ে ফেলি।” মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “লোকসভা নির্বাচন হতে আর বছর তিনেক বাকি আছে, তার মধ্যে আমাদের ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।”

পেগাসাস প্রসঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি সভাপতি দিলীপ ঘোষ বলেছেন, “আমরা নই, মুখ্যমন্ত্রী নিজে সকলের ফোন ট্যাপ করেন। এমনকি তাঁর নিজের দল তৃণমূলেরও কেউ সাধারণভাবে ফোনে কথা বলতে পারেন না, কারণ মমতা নিজেই তাঁদের ফোনে আড়ি পাতেন।” বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী বলেছেন, “এসব আমরা করি না, তৃণমূল করে।”

গণতন্ত্রের প্রসঙ্গে বিজেপির পশ্চিমবঙ্গের মুখপাত্র সন্ময় বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “গণতন্ত্রের উপর সবচেয়ে বড় আক্রমণ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিজে এনেছেন। এ বারে বিধানসভা নির্বাচন হয়ে যাওয়ার পর তৃণমূল কর্মীদের আক্রমণে বিজেপির ৪২ জন খুন হয়েছেন শুধুমাত্র পশ্চিমবঙ্গে। অথচ একই সঙ্গে অসম, তামিলনাড়ু, কেরালাতেও তো নির্বাচন হলো, কোথাও কোনও খুন-জখমের খবর পাওয়া যায়নি। তা হলে পশ্চিমবঙ্গে খুনের রাজনীতি চলছে যদি বলা হয়, অন্যায় হবে কি?”

নিউজ সোর্স : বিজেপিকে ক্ষমতাচ্যুত করতে বিরোধী দলগুলোকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার ডাক মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের

Leave A Reply

Your email address will not be published.