নিড ফর স্কিলস : তৃণমূলের তরুণরা কি ভাবছে?

নিড ফর স্কিলস : তৃণমূলের তরুণরা কি ভাবছে?

তরুণদের নিয়ে শান্তিপূর্ণ ও দক্ষ যুব সমাজ গঠনের লক্ষ্যে ‘নিড ফর স্কিলস’ শীর্ষক ‘ইয়ুথ কনসালটেশন’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে দেশের ৮ বিভাগের, ১৮ জেলার বিভিন্ন অঞ্চলের প্রায় ৩০ জন তরুণ অংশ নেন।

সম্প্রতি এই ওয়েবিনারের আয়োজন করে গ্রামীণফোন, ইউএনডিপি ও ইয়ুথ পলিসি ফোরাম।

অনুষ্ঠান বর্তমান বিশ্বের কর্মসংস্থান, দক্ষতা এবং করোনাকালীন ও পরবর্তী সময়ের সম্ভাব্য চ্যালেঞ্জ নিয়ে একটি তথ্যমূলক উপস্থাপনা তুলে ধরে ইউএনডিপি’র প্রোগ্রাম অফিসার মাহমুদুল হাসান বলেন, এই প্রকল্পের লক্ষ্য তরুণদের মধ্য সচেতনতা ও দক্ষতার প্রসার, প্রান্তিক ও তৃণমূল পর্যায়ের তরুণদের একুশ শতকের দক্ষতা ও প্রশিক্ষণ সম্পর্কে ধারণা, মতামত গ্রহণ এবং তাদের জন্য সুযোগ সৃষ্টির পথ উন্মোচন করা।

কোভিড-১৯ প্রকোপে যারা কর্মহীন হয়ে পড়েছেন, তাদের ঘটনাগুলোও এই উপস্থাপনায় তুলে ধরা হয়। ইয়ুথ কনসালটেশনের মূল পর্বে বিভিন্ন অঞ্চলের তরুণরা তাদের অভিজ্ঞতা এবং উপলদ্ধি ব্যক্ত করেন। 

ফেনীর জহুরুল ইসলাম বলেন, ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা অনুযায়ী সহশিক্ষা কার্যক্রমের জন্য বিভিন্ন সংগঠন তৈরি হলেও সকল শিক্ষার্থী সেই সম্পর্কে অবহিত নয়। কিংবা এর প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে সচেতন নয়। সমসাময়িক চাহিদা অনুযায়ী প্রশিক্ষণের সুযোগও থাকে না সেখানে।

সিলেটের মোহসি বলেন, স্নাতক চতুর্থ বর্ষের আগে আমাদের ইন্টার্নশিপের সুযোগ সহজলভ্য নয়। আমাদের দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য এই সীমাবদ্ধতায় দৃষ্টিপাত করা প্রয়োজন।

শিক্ষাব্যবস্থার ত্রুটি উল্লেখ করে রংপুরের রাফিয়া বলেন, আমরা প্রতি সেমিস্টারে যা শিখছি পরের সেমিস্টারে তা কাজে লাগাতে পারছি না। আবার চাকরিতে ঢোকার সময় সেই কোর্স করেই ঢুকছি। শিক্ষার মান যথেষ্ট হলে আমরা সবাই পাস করে বের হয়েই চাকরি পেয়ে যেতাম। 

আলোচনায় এক পর্যায়ে মানবসম্পদ বিশেষজ্ঞ মারিলিন ফারজানা আহমেদ দক্ষতার সাথে শিক্ষার সমন্বয়ের কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরেন। তিনি প্রায় ১৫ বছর ধরে বিভিন্ন ইন্ডাস্ট্রির মানবসম্পদ নিয়ে কাজ করছেন। মারিলিন ফারজানা আহমেদ বলেন, আমাদের উদ্ভাবনী চিন্তা করতে হবে। এই ভাষা, দক্ষতা, ব্যবসা আর উদ্ভাবন দিয়েই বিশ্বব্যাপী একটা সংযোগ তৈরি করা সম্ভব। 

আলোচনা অংশ নিয়ে গ্রামীণফোনের প্রতিনিধি ফারহানা ইসলাম বলেন, আমাদের প্রতিনিয়ত শেখার মানসিকতা ও আগ্রহ ধরে রাখা প্রয়োজন। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের সময়কালের মতো আমাদের প্রাথমিক শিক্ষার প্রাথমিক পর্যায়ে অভিযোজন শিখতে হবে। আমাদের পরবর্তী কী করা উচিত তা আমাদেরকেই খুঁজে বের করতে হবে। 

ইউএনডিপি’র সহকারী আবাসিক প্রতিনিধি ও ওয়াপিএফ-এর প্রতিনিধি আশেকুর রহমান বলেন আমাদের ভবিষ্যতটি কোভিড পরবর্তী নব্য স্বাভাবিক হতে চলেছে তা মেনে নেয়া দরকার। পেশাদার বুদ্ধিজীবিরা আমাদের এই কঠিন সময়ে অভিযোজন ও সংস্কারে সহায়তা করবেন। বর্তমানে বিশ্বে সংবেদনশীল বুদ্ধিমত্তার প্রয়োজনীয়তা বহুল আলোচিত। চতুর্থ শিল্প বিপ্লব ডিজিটালাইজেশন সম্পর্কিত তবে পঞ্চম শিল্প বিপ্লবে ব্যক্তিগতকরণ আরও বেশি। এটি মানবজাতিকে মেশিনের সাথে আরও দৃঢ়ভাবে সংযুক্ত করবে। তাই মেশিনের ব্যাপারে জানা ও এই সম্পর্কিত জ্ঞানবৃদ্ধির দিকে নজর দিতে হবে।

সবশেষে তরুণরা তাদের জন্য বর্তমান শিক্ষার সাথে সামঞ্জস্য রেখে কারিগরি প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করার আহ্বান জানান। সেই সাথে তারা সরকারি এবং বেসরকারি খাতের বিভিন্ন অংশগ্রহণমুলক দক্ষতা কর্মসূচিরও প্রশংসা করেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ইয়ুথ পলিসি ফোরাম (ওয়াইপিএফ) এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা কাজী আশফাকুল হক।

এএ

নিউজ সোর্স : নিড ফর স্কিলস : তৃণমূলের তরুণরা কি ভাবছে?

Leave A Reply

Your email address will not be published.