দুর্নীতিমুক্ত খাদ্য মন্ত্রণালয় তৈরি করতে চাই: দিনাজপুরে খাদ্যমন্ত্রী

- Advertisement -

দিনাজপুর প্রতিনিধি: নিজস্ব প্রতিবেদক:
দিনাজপুরে আমন সংগ্রহ ২০১৯-২০ কার্যক্রম বিষয়ক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে । খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার বলেছেন, ‘খাদ্য কর্মকর্তাদের মনে যদি পোকা না থাকে তাহলে খাদ্য গুদামের চালে কখইনই পোকা ধরবে না। আমি খাদ্য মন্ত্রণালয়কে দুর্নীতিমুক্ত করতে চাই। খাদ্য বিভাগের অনেকেই আছেন, যারা বিভিন্ন জায়গায় গিয়ে ৫ জন কৃষকের সাথে ছবি তুলে ফেসবুকে দিয়ে মাঠ কাঁপাতে চায়। এমন কর্মকর্তা কর্মচারী আমি খাদ্য মন্ত্রণালয়ে চাই না। সরকার দরকার হয় খাদ্য বিভাগের ভিতরে শুদ্ধি অভিযান পরিচালনা করে দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের খাদ্য বিভাগ থেকে বিতারিত করবে।’

বুধবার দুপুর ১২ টায় দিনাজপুর জেলা প্রশাসনের আয়োজনে জেলা প্রশাসকের সভাকক্ষে আসন্ন আমন সংগ্রহ ২০১৯-২০ কার্যক্রম বিষয়ক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

আমন সংগ্রহ কার্যক্রম বিষয়ক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার। উপস্থিত ছিলেন খাদ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) ড. মোছা. নাজমানারা খানম, পরিচালক (সংগ্রহ) জুলফিকার রহমান, রংপুরের আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রক রায়হানুল কবির, জাতীয় সংসদের হুইপ ইকবালুর রহিম এমপি, মনোরঞ্জন শীল গোপাল এমপি, জাকিয়া তাবাসসুম জুঁই এমপি, দিনাজপুর জেলা প্রশাসক মাহমুদুল আলম প্রমূখ।

মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার বলেন, ‘দিনাজপুরকে খাদ্য শষ্যের ভান্ডার বলা হয়। এই দিনাজপুরে ধান, গম, ভুট্টাসহ বিভিন্ন ধরণের চাষাবাদ হয়ে থাকে। কিন্তু বর্তমানে সারা দেশেই গমের চাষ কমে যাচ্ছে। আমাদের গমের চাষ বাড়াতে হবে। সেই সাথে চাল সংরক্ষণের জন্য আমাদের বিভিন্ন ধরণের প্রস্তুতি চলছে। আমরা যাতে বিদেশে চাল রপ্তানি করতে পারি সেজন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।’

তিনি আরও বলেন, ইতোপূর্বে যে সকল জায়গায় ধান উৎপাদন হতো না বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই সেই সকল জায়গায় ধান উৎপাদনের ব্যবস্থা করে দিয়েছেন। কৃষকদের কষ্ট লাঘবে সরকার ধানের বিভিন্ন জাত উদ্ভাবন করছে। দেশে বর্তমানে ১৫ লক্ষ মেট্রিক টন চাল মজুদ রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কারণে আজ খাদ্যে বাংলাদেশ স্বয়ংসম্পূর্ণ উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হতে বিভিন্ন পদক্ষেপ হাতে নিয়েছে। বর্তমানে আমাদের দেশে যে পরিমান চাল মজুদ আছে তা এর আগে কখনই ছিল না। খাদ্য সংরক্ষণের জন্য সারা দেশে ২০০ টি সংরক্ষনাগার চালু করা হবে। যেখানে কৃষকরা তাদের খাদ্য সংরক্ষণ করতে পারবেন।

খাদ্য বিভাগের কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে মন্ত্রী হুশায়ারী দিয়ে বলেন, ‘যদি কোন কর্মকর্তার দুর্নীতির তথ্য পাওয়া যায় তাহলে আমরা দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করব। খাদ্য বিভাগে কোন দুর্নীতিবাজদের জায়গা হবে না।

কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে তিনি আরও বলেন, ‘আপনারা সবসময় প্রান্তিক কৃষক বাছাই করে ধান চাল সংগ্রহ করবেন। অন্য যেকোন সময়ের তুলনায় এবার বোরো মৌসুমে কৃষকদের কাছ থেকে বেশি চাল কেনা হয়েছে। চলতি আমন মৌসুমে কৃষকদের কাছ থেকে আরো বেশি চাল ক্রয় করা হবে বলেও জানান তিনি।

মতবিনিময় সভা শেষে খাদ্যমন্ত্রী দিনাজপুর সিএসডি গোডাউন পরিদর্শনে যান।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

Leave A Reply

Your email address will not be published.