ছেলের বিয়ের পাত্রী দেখতে এসে গণধর্ষণের শিকার নারী, গ্রেপ্তার ৭

- Advertisement -

নাটোর প্রতিনিধি:
পর পর দুই বিয়ে হলেও সংসার সুখের হয়নি। ছেলে মেয়ে রেখে চলে গেছে স্বামী। স্বামী পরিত্যাক্তা ওই নারী (৪০) নানা কষ্ট করে বিয়ে দিয়েছেন মেয়েকে। এবার রাজমিস্ত্রী ছেলেকে বিয়ে দেয়ার কথা চিন্তা করেন ওই নারী। নিজ মেয়ের শ্বশুর তথা বিয়াই খোঁজ দেন তার এক বন্ধুর ভাতিজির। পরে বিয়াইয়ের সাথে ওই মেয়ে দেখতে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সুকৌশলে ওই নারীকে অন্যত্র নিয়ে বেয়াই রায়হান ও তার বন্ধু রাশেদুল মিলে ধর্ষণ করে। পরে রাশেদুলে ফোনকলে সেখানে এসে আরো ১২ জনের মাধ্যমে ধর্ষণের শিকার হন নারী।

মঙ্গলবার রাতে জেলার নাটোরের লালপুর উপজেলার ওয়ালিয়া এলাকার চৌরাস্তার পাশে আম-জাম তলা এলাকায় ওই ঘটনা ঘটে। মামলার আইও, ওয়ালিয়া পুলিশ ফাঁড়ি ইনচার্জ এসআই কৃষ্ণমোহন ও লালপুর থানার ওসি সেলিম রেজা বুধবার রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এদিকে এ ঘটনায় মামলা হলে পুলিশ ইতোমধ্যেই ওই দুইজনসহ ৭ ধর্ষককে গ্রেপ্তার করেছে।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলো- লালপুর উপজেলার ফুলবাড়ী গ্রামের মৃত আনার আলীর ছেলে ভুক্তভোগীর বিয়াইয়ের কথিত বন্ধু, খেজুরের রস আহরণকারী রাশেদুল ইসলাম (৩৬), ওয়ালিয়া সেন্টারপাড়া গ্রামের মৃত সফর সরদারের ছেলে আকমল সরদার (৪৫), ওয়ালিয়া আমিন পাড়া গ্রামের মৃত লালমিয়া সরকারের ছেলে রবিউল ইসলাম সরকার (৪৫), ওয়ালিয়া পশ্চিমপাড়া গ্রামের মৃৃত লাল মোহাম্মদ রশিদ সরকারের ছেলে জিল্লুর রহমান (৪২), ওয়ালিয়া বাজার পাড়া গ্রামের সাদ্দাম হোসেনের ছেলে জীবন ইসলাম (২৫), ওয়ালিয়া পশ্চিমপাড়া গ্রামের আব্দুল মন্ডলের ছেলে তরিকুল ইসলাম (৩৫) এবং বড়াইগ্রাম উপজেলার ধানাইদহ গ্রামের মৃত তৌফিক ফকিরের ছেলে, ভুক্তভোগীর বিয়াই ডাব বিক্রেতা রায়হান ফকির (৩৮)।

মামলার আইও, ওয়ালিয়া পুলিশ ফাঁড়ি ইনচার্জ এসআই কৃষ্ণমোহন জানান, মঙ্গলবার বিকেলে রাশেদুলের ভাতিজিকে ছেলের বউ হিসেবে দেখতে বেয়াই রায়হানের সাথে ওই নারী বড়াইগ্রাম উপজেলার ধানাইদহ গ্রাম থেকে ওয়ালিয়ায় আসে। বিভিন্ন জায়গায় কৌশলে দেরী করে সন্ধ্যার পর সাইকেলে রওনা হয় রাশেদুল, পিছনে তার ভাতিজিকে দেখতেরায়হানের ভ্যানে যেতে থাকে ওই নারী। এক পর্যায়ে ঘটনাস্থলে পৌছে রায়হানের পর রাশেদুল মেয়েটিকে ধর্ষণ করে। এরপর রাশেদুলের মাধ্যমে মোবাইলে খবর পেয়ে অপর ১২ জন ওই নারীকে ধর্ষণ করে। বুধবার সকালে ভুক্তভোগী নারী ওয়ালিয়া পুলিশ ফাঁড়িতে পৌছে। এরপর বিকেল সোয়া তিনটার দিকে লিখিত অভিযোগ দেন। অভিযানে পুলিশ ওই ৭ জনকে গ্রেপ্তার করে।

Print Friendly, PDF & Email

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

Leave A Reply

Your email address will not be published.