কুড়িগ্রাম ও পঞ্চগড়ে পৃথক লাশের দুই মাথা ও দেহাংশ উদ্ধার!

- Advertisement -

নিউজ ডেস্ক:
কুড়িগ্রামের রাজারহাট ও পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় পৃথক দুই জনের লাশের দুই মাথাসহ দেহাংশ উদ্ধার করেছে স্থানীয় থানা পুলিশ। এসব মাথা ও দেহাংশগুলি পূর্বে উদ্ধারকৃত লাশের অংশের হতে পারে বলে ধারনা করছে পুলিশ। তবে ডিএনএ টেস্ট করলে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যাবে। এছাড়াও ময়মনসিংহে পাওয়া দেহাংশের সাথে যথাক্রমে সদর থানা ও রাজারহাটে পাওয়া দেহাংশের সাথে মিল আছে বলে জানা গেছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাজারহাটের নাককা‌টি বাজা‌র এলাকায় মঙ্গলবার সকাল ১০ টার দিকে পচাঁ দূর্গন্ধ ছ‌ড়ি‌য়ে পড়‌লে স্থানীয়রা ডোবায় ভাসমান অবস্থায় মানু‌ষের অর্ধগ‌লিত খণ্ডিত দেহাংশ দেখ‌তে পায়। প‌রে পুলিশে খবর দিলে পু‌লিশ মর‌দেহহের অংশ বিশেষ উদ্ধার করে।

এর আ‌গেরদিন সোমবার সকা‌লে জেলার সদর উপ‌জেলার বেলগাছা ইউ‌নিয়‌নের প‌শ্চিম কল্যাণ গ্রাম থে‌কে মানু‌ষের দেহ বি‌চ্ছিন্ন এক‌টি পা উদ্ধার ক‌রে পু‌লিশ।

অ‌তি‌রিক্ত পু‌লিশ সুপার মেনহাজুল আলম জানান, আমরা মর‌দে‌হের মূল শরীর ছাড়া মাথা, দুই হাত ও একটি পা উদ্ধার কর‌ছি। দেহখণ্ডগু‌লির পা‌শে এক‌টি ব্যাগ ও কাপড় পাওয়া গে‌ছে। ময়মন‌সিং‌হে লা‌গে‌জের ভেতর থে‌কে উদ্ধার হওয়া ব্যা‌ক্তির দেহখণ্ডের সা‌থে কুড়িগ্রা‌ম সদর ও রাজারহাটে উদ্ধার হওয়া অঙ্গগু‌লোর যোগসূত্র র‌য়ে‌ছে কি না, আমরা তা খতি‌য়ে দেখ‌ছি।

অপরদিকে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় একটি চা বাগান থেকে দেহবিহীন মুণ্ডু উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার বেলা ১১টায় পঞ্চগড়-বাংলাবান্ধা মহাসড়কের ধারে আজিজনগর গ্রামের নুরুল ইসলাম নুরুর চা বাগান থেকে এটি উদ্ধার করা হয়। ধারনা করা হচ্ছে মাথাটি ৫ দিন আগে পাওয়া লাশের।

জানাযায়, চা বাগান মালিক সদর ইউপির আজিজনগর গ্রামের নওশের আলীর ছেলে নুরুল ইসলাম নুরু সকাল ৯ টার দিকে কাচা চা পাতা তুলতে বাগানে গেলে দুর্গন্ধ পান। গন্ধ শুঁকে খুঁজতে থাকেন কীসের গন্ধ! অনেক খোঁজাখুঁজির পর দেহবিহীন একটি মাথা দেখতে পায়। তাৎক্ষনিক থানা পুলিশকে খবর দেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে মাথা উদ্ধার করে পঞ্চগড় মর্গে প্রেরণ করে।

জানা যায়, গত ১৮ অক্টোবর তিরনইহাট ইউপির ব্রহ্মতোল গ্রামের ঝিকধুয়া খালের স্লুইস গেটের ডোবা থেকে উদ্ধার করা মাথাবিহীন লাশেরই মাথা হতে পারে বলে প্রাথমিক ধারনা করছে পুলিশ। এ ঘটনায় এসআই শাহাদাত হোসেন বাদী হয়ে হত্যার অভিযোগে অজ্ঞাতনামা নামে মামলা করেন। মামলার পর এ হত্যাকান্ডে জড়িত সন্দেহে তিরনইহাট ইউনিয়নের যোগীগছ গ্রামের আজিমুদ্দিনের পুত্র রুবেল ও ব্রহ্মতোল গ্রামের নাজিম উদ্দীনের পুত্র আব্দুল বারেকে আটক করে ডিবি পুলিশ।

মাথাবিহীন লাশটি নোয়াখালী জেলার বেগমগঞ্জ উপজেলার লক্ষী নারায়নপুর গ্রামের আব্দুর রউফ বলে সনাক্ত করে ডিবি পুলিশ।

এ ব্যাপারে তেতুলিয়া মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ভার) আবু সাঈদ চৌধুরী জানান, দেহবিহীন মাথাটি ৫ দিন আগে মাথাবিহীন লাশেরই হতে পারে এমনটিই ধারনা করা যাচ্ছে। তবে উদ্ধারকৃত মাথা ও দেহ ডিএনএ পরীক্ষা এবং পুলিশের তদন্ত ছাড়া নিশ্চিত ভাবে বলা যাচ্ছে না।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

Leave A Reply

Your email address will not be published.