কাউনিয়া: ৪ জন ডাক্তারেই চলে ৪ লাখ মানুষের স্বাস্থ্যসেবা

৫০ শয্যা শুধু কাগজে-কলমে

- Advertisement -

নিজস্ব প্রতিবেদক:
তিস্তা নদী বেষ্ঠিত রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার প্রায় ৪ লাখ মানুষের স্বাস্থ্য সেবার জন্য ১৯৮২ সালে স্থাপিত হয় কাউনিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। ডাক্তারের অপ্রতুলতার কারণে বিশাল এ জনগোষ্ঠির স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করতে ১০ জন মেডিকেল অফিসারের পদ থাকলেও বাস্তবে রয়েছে মাত্র ৪ জন। তাই প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা দিতে হিমসিম খাচ্ছেন ডাক্তাররা। এরমধ্যে মরার উপর খরার ঘাঁ হলো ৫০ শয্যার হাসপাতাল উদ্বোধন করা হয়। ৫০ শয্যা আছে শুধু কাগজে কলমে, নেই প্রয়োজনীয় জনবল। এখনো খুলে দেয়া হয়নি ৫০ শয্যার কেবিনগুলো।

উপজেলা থেকে প্রায় ৩০ কিঃমিঃ দুরে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল তাই এ উপজেলার ৪ লাখ মানুষ এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু নেই ডাক্তার, ১৯৮২ সালে স্থাপন কালের জনসংখ্যা অনুযায়ী জনবল আজও পরিবর্তন হয়নি। ফলে স্বাস্থ্য সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে এ এলাকার লাখো মানুষ।

Kaunia Upazila Health Complex 2এদিকে ভারপ্রাপ্ত আবাসিক মেডিকেল অফিসার থাকেন রংপুরে। নেই ল্যাব টেকনিশিয়ান, ডেন্টাল টেকনিশিয়ান, কার্ডিওগ্রাফার, এক্স-রে টেকনিশিয়ান কাগজে আছে কাজ করে রংপুরে ফলে ১৮ বছর ধরে এক্স-রে মেশিন অচল। উপ-সহকারী মেডিকেল অফিসারের ৭ পদের বিপরীতে আছে ৪, ফার্মাসিষ্ট ৪ পদের বিপরিতে আছে ২, নার্স ১৫ পদের বিপরিতে আছে ১২, স্বাস্থ্য সহকারী ৩০ পদের বিপরিতে আছে ২২, বিশেষজ্ঞ ডাক্তার ১০ পদের বিপরিতে আছে ৩, সহকারী সার্জন ১০ পদের বিপরিতে আছে ৩ জন। সুইপার ৫ পদের বিপরিতে নেই একজনও। এর ফলে প্রতিদিন শত শত রোগী চিকিৎসা নিতে এসে চরম ভোগান্তীর শিকার হচ্ছেন।

অপরদিকে ডাক্তাররা হচ্ছেন নাজেহাল। জনবল সংকটের কারনে আধুনিক ৩টি ওটি রুমও কোনো কাজে আসছে না। কোটি টাকা মূল্যের যন্ত্রপাতি ব্যবহার না হওয়ায় নষ্ট হচ্ছে। ২টি এক্স-রে মেশিন, ২টি ডেন্টাল চেয়ার, ১টি রক্ত সংরক্ষন মেশিন, ১টি ডিষ্টিল ওয়াটার মেশিনসহ রয়েছে আধুনিক ল্যাব যার সেবা থেকে বঞ্চিত সাধারন রোগীরা। এসব দেখার কেউ নেই!

Kaunia Upazila Health Complex 1সরেজমিনে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে দেখা গেছে, জরুরি বিভাগ ও বহিঃ বিভাগে উপচেপড়া রোগীর ভীর। কিন্তু পর্যাপ্ত চিকিৎসক না থাকায় সেবা প্রদানে চরম বেঘাত সৃষ্টি হচ্ছে। ল্যাট্রিন সমূহ ব্যবহারের যোগ্য নয়, পরিস্কার পচ্ছিন্নতারও রয়েছে সংকট।

এ ব্যাপারে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পঃপঃ কর্মকর্তা ডাঃ আসিফ ফেরদৌস জানান, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ইচ্ছে থাকা সত্ত্বেও প্রয়োজনীয় জনবল না থাকায় সাধারন মানুষকে প্রয়োজনীয় সেবা দিতে পারছিনা।

তিনি বলেন, এখানে ৭২টি পদ শূণ্য রয়েছে। জনবল বৃদ্ধির জন্য উর্ধতন কর্তৃপক্ষসহ স্থানীয় সংসদ সদস্য বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশিকে অবগত করা হয়েছে। আশাকরা হচ্ছে শীঘ্রই এ অবস্থার একটা সুরাহা হবে।

Print Friendly, PDF & Email

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

Leave A Reply

Your email address will not be published.