মেয়াদোত্তীর্ণের দেড় যুগ হলেও তিস্তা রেল সেতুতে ঝুঁকি নিয়ে চলছে ১৯ ট্রেন

- Advertisement -

বিশেষ প্রতিনিধি:
চলতি অক্টোবরেই তিস্তা রেল সেতুর মেয়াদোত্তীর্ণের দেড় যুগ পার হলেও এখনো ঝুঁকি নিয়ে অহঃনিশী চলাচল করছে ২টি আন্তঃনগর ট্রেনসহ অন্তত ১৯টি ট্রেন। উত্তরের দুই জেলার সাথে দেশের রেল যোগাযোগ স্থাপনের জন্য তৎকালীন ব্রিটিশ সরকার সেতুটি নির্মাণ করেন এবং সেতুটির ১’শ বছর মেয়াদকাল নির্ধারণ করে চলাচলের জন্য ১৯০১ইং সালের ১৬ আক্টোবর খুলে দেয়।

বিগত ২০০০ইং সালের আক্টোবরে সেতু নির্মাণের শতবর্ষ পূর্ণ হয়। এরপর পেরিয়ে গেছে দেড় যুগ। তবুও ঝুঁকি নিয়ে চলছে ট্রেন। বর্তমানে লালমনিরহাট রেল ডিভিশনের ১৯টি ট্রেন এই সেতু দিয়ে পারাপার হচ্ছে। এরমধ্যে রয়েছে দৈনিক মেইল, লোকালসহ ২টি আন্তঃনগর ট্রেন। মেয়াদোত্তীর্ণ এই সেতুর পাশে আরেকটি রেল সেতু নির্মাণের সরকারি পরিকল্পনা থাকলেও নেই কোন তার বাস্তায়নের উদ্যোগ।

রেলওয়ের সূত্রমতে, সারাদেশের সঙ্গে লালমনিরহাট ও কুড়িগ্রাম অঞ্চলে রেল যোগাযোগ সৃষ্টি করতে ১৯০১ইং সালে তিস্তা নদীর ওপর ২ হাজার ১’শ ১০ ফুট লম্বা এই তিস্তা রেল সেতু নির্মাণ করেন তৎকালীন ব্রিটিশ সরকার। সে সময় দেশের তৃতীয় বৃহত্তম রেল সেতু হিসেবে এটির ব্যাপক পরিচিতি ছিল। সেতুটির উত্তর পাশে লালমনিরহাট সদর উপজেলার তিস্তা এলাকা এবং দক্ষিণ পাশে যুক্ত রয়েছে রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার সঙ্গে। ১’শ ১৯ বছর বয়সী এ সেতুর মেয়াদকাল ধরা হয়েছিল ১’শ বছর। দেড় যুগ আগে সেতুটি মেয়াদোত্তীর্ণ হলেও রেল কর্তৃপক্ষ জোড়াতালি দিয়ে প্রতিদিন পারাপার করছেন ১৯টি ট্রেন।

১৯৭১ইং সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে সেতুটির দক্ষিণ প্রান্তে পাকবাহিনী বোমবিং করলে কাউনিয়া প্রান্তের একটি গার্ডার পুরোপুরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরে ১৯৭২ইং সালে মেরামতের মাধ্যমে সেতুটি পুনরায় চালু করা হয়। তারপর ১৯৭৭ইং সালে রেলওয়ে ও সওজ বিভাগ যৌথভাবে রেল সেতুতে মিটারগেজ লাইনের পাশে ২’শ ৬০টি ষ্টীলের টাইফ প্লেট ও কাঠের পাটাতন স্থাপন করে। ১৯৭৮ইং সালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি মরহুম জিয়াউর রহমান জনসাধারণের সুবিধার্থে ট্রেনের পাশাপাশি সেতুটিতে সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থার উদ্বোধন করেন।

সেই থেকে সেতু ওপর দিয়ে ট্রেন ও যাত্রীবাহী বাস- ট্রাকসহ বিভিন্ন যানবাহন চলাচল শুরু হয়। এতে অতিরিক্ত মালামাল ও পাথর বোঝাই ট্রাক পারাপারের কারনে সেতুর ওপর দিয়ে ট্রেন চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। ফলে ২০০১ইং সালে রেল সেতুর পূর্ব দিকে তিস্তা সড়ক সেতু নির্মাণের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পরে ২০১২ইং সালের ২০ সেপ্টেম্বরে তিস্তা সড়ক সেতু উদ্বোধন করেন তিনি।

এদিকে সড়ক সেতু চালু হওয়ায় মেয়াদোত্তীর্ণ রেল সেতুতে যানবাহন চলাচল বন্ধ হলেও ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক থাকে। বর্তমানে সেতুটির অবস্থা বেশ নাজুক। দুর্ঘটনা এড়াতে সেতুটির উন্নয়নে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে সরকারের প্রতি আহবান জানিয়েছেন রেলের সাধারণ যাত্রী ও অভিজ্ঞ মহল। তিস্তা সেতু এলাকার প্রভাষক জি আজম, আব্দুল কাদের, খলিলুর রহমান, আনোয়ার হোসেন, নুরু মিয়া, জোবেদ আলী, আবুল কালাম আজাদ, আব্দুর রহিম মিয়া বলেন তিস্তা রেল সেতুটির ওপর ট্রেন উঠলে সেতুটি কেঁপে ওঠে। মাঝে মধ্যে লোক দেখানো নামমাত্র মেরামতের কাজ হলেও সেতুটির কোন উন্নতি ঘটেনি।

অপরদিকে রেলওয়ের পশ্চিমাঞ্চল জোনের প্রধান প্রকৌশলী ইঞ্জিনিয়ার আল-ফাত্তাহ মোঃ মাসুদুর রহমান জানান, তিস্তা রেল সেতু কিছুটা মেরামত করা হয়েছে। এখন সেতুটিতে ট্রেন চলাচলে খুব বেশী সমস্যা নেই। আমরা একে ঝুঁকিপূর্ণ সেতু বলতে পারিনা। সেই সাথে যাত্রীদের আতঙ্কের ব্যাপারটি সরেজমিনে প্রত্যক্ষ করবো। অন্যদিকে রেলওয়ের লালমনিরহাট বিভাগীয় ম্যানেজার মুহাম্মদ শফিকুর রহমান বলেন, তিস্তা রেল সেতু ঝুঁকিপূর্ণ নয়। তবুও এর পশ্চিম পাশে নতুন করে আরো একটি ডাবল ব্রডগেজ সেতু নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

Leave A Reply

Your email address will not be published.