নুসরাত হত্যায় দণ্ডিত আসামীদের কার কী ভূমিকা ছিল?

- Advertisement -

নিউজ ডেস্ক:
সোনাগাজীর মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে হত্যা মামলার রায় দিয়েছেন আদালত। মামলার তদন্তে এসেছে, আসামিরা অধ্যক্ষ সিরাজ-উদ-দৌলার অনুগত ছিলেন। অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ করায় তারা নুসরাতের ওপর ক্ষিপ্ত হন। যার ফলশ্রুতিতে প্রাণ দিতে হয় নুসরাতকে।

ঘটনার সময় নুসরাত আলিম পরীক্ষা দিচ্ছিলেন। ৬ এপ্রিল পরীক্ষা শুরুর আগে পরীক্ষা কেন্দ্র সাইক্লোন শেল্টারের ছাদে নুসরাতকে কৌশলে ডেকে নিয়ে তার গায়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। অগ্নিদগ্ধ নুসরাতকে ঢাকায় এনে বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়েছিল; পাঁচদিনপর ১০ এপ্রিল মারা যান তিনি।

নুসরাতের গায়ে আগুন দেওয়ার দুদিন পর তার ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান আটজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও কয়েকজনকে আসামি করে হত্যাচেষ্টার মামলা করেন। নুসরাতের মৃত্যুর পর এটি হত্যা মামলায় পরিণত নেয়।

নুসরাতকে হত্যার হুকুমদাতা সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ-উদ দৌলানুসরাতকে হত্যার হুকুমদাতা সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ-উদ দৌলাআলোচিত এই মামলার দ্রুত তদন্ত শেষ করে পিবিআইর পরিদর্শক শাহ আলম এজহারভুক্ত আটজন এবং এজাহার বহির্ভূত আটজনসহ মোট ১৬ জনকে আসামি করে গত ৫ মে আদালতে অভিযোগপত্র দেন।

তার পরের মাসে ২০ জুন অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় ১৬ আসামির বিচার। ৯২ জন সাক্ষীর মধ্যে ৮৭ জনের সাক্ষ্য নেওয়ার পর বৃহস্পতিবার রায় দেন ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মামুনুর রশীদ।

নুসরাতকে হত্যায় ব্যবহৃত বোরখা ও কেরোসিন কেনার টাকা স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা মাকসুদ আলম দিয়েছিলেন বলে অভিযোগপত্রে এসেছে। নুসরাতকে হত্যায় ব্যবহৃত বোরখা ও কেরোসিন কেনার টাকা স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা মাকসুদ আলম দিয়েছিলেন বলে অভিযোগপত্রে এসেছে।

নুসরাত হত্যায় আসামিদের কার কী ভূমিকা ছিল তা তুলে ধরা হল-

 

1 siraj১ নম্বর আসামী সিরাজ উদ দৌলা (৫৭):
মাদরাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলা হত্যাকাণ্ডে সরাসরি অংশ না নিলেও পিবিআইয়ের ভাষায়, তার চেয়ে বেশি করেছেন।

নুসরাতের যৌন হয়রানির মামলা তুলে নিতে চাপ প্রয়োগ, তাতে কাজ না হওয়ায় ভয়ভীতি দেখানো এবং পরে নুসরাতকে হত্যার জন্য সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা দেয়ার অভিযোগ আনা হয় তার বিরুদ্ধে।

 

 

 

2 Nur Uddin২ নম্বর আসামী নুর উদ্দিন (২০) :
নুসতার হত্যার পরিকল্পনা বাস্তবায়নে গুরুত্বপূণ ভূমিকা ছিল অধ্যক্ষের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত নুর উদ্দিনের।

পিবিআই বলছে- নুসরাতে গায়ে আগুন দেওয়ার আগে রেকি করা ছিল তার দায়িত্ব।

আর ভবনের ছাদে নুসরাতে গায়ে আগুন দেওয়ার সময় নিচে থেকে পুরো ঘটনার তদারকি করা ছিল তার বিশেষ দায়িত্ব।

 

 

3 Shahadat৩ নম্বর আসামী শাহাদাত হোসেন শামীম (২০) :
নুসরাতকে প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে প্রত্যাখ্যাত হয়েছিলেন শামীম। সেজন্য তার ক্ষোভ ছিল। হত্যাকাণ্ড বাস্তবায়নে কার কী ভূমিক সেই পরিকল্পনা সাজান শাহাদাত।

কাউন্সিলর মাকসুদের কাছ থেকে ১০ হাজার টাকা নিয়ে তিনি বোরখা ও কেরোসিন কেনার ব্যবস্থা করেন। নুসরাতে গায়ে আগুন দেওয়ার সময় তিনি হাত দিয়ে মুখ চেপে ধরেন।

 

 

4 maksud৪ নম্বর আসামী মাকসুদ আলম ওরফে মোকসুদ কাউন্সিলর (৫০) :
অধ্যক্ষ গ্রেপ্তার হলে ২৮ মার্চ তার মুক্তির দাবিতে মানববন্ধনে অংশ নেন স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা মাকসুদ।

বোরখা ও কেরোসিন কেনার জন্য তিনিই শাহাদাত হোসেন শামীমকে (৩ নম্বর আসামী) ১০ হাজার টাক দেন।

পুরো ঘটনার আগাগোড়াই তিনি পূর্বে থেকে জানতেন এবং খোঁজ খবর রাখছিলেন।

 

 

5 saifur rahman৫ নম্বর আসামী সাইফুর রহমান মোহাম্মদ জোবায়ের (২১) :
বোরখা ও হাতমোজা পরে সরাসরি হত্যাকাণ্ডে অংশ নেন জোবায়ের।

নুসরাতের ওড়না ছিঁড়ে দুই ভাগ করে পা বাঁধা এবং কেরোসিন ঢালার পর ম্যাচ দিয়ে আগুন ধরানোর কাজটি জোবায়েরই করেন।

 

 

 

6 Jabed৬ নম্বর আসামী জাবেদ হোসেন ওরফে সাখাওয়াত হোসেন (১৯) :
বোরখা ও পরে হত্যাকাণ্ডে সরাসরি অংশ নেন জাবেদ। পা বাঁধা হলে পলিথিন থেকে কেরোসিন গ্লাসে ঢেলে তিনি নুসরাতের গায়ে ছিটিয়ে দেন। সব কাজ শেষে বোরখা খুলে হলে ঢুকে যান।

 

 

7 ab kader৭ নম্বর আসামী হাফেজ আব্দুল কাদের (২৫) :
নুসরাতের ভাই মোমেনের বন্ধু কাদেরও সেদিন মাদ্রাসার মূল ফটকে পাহারায় ছিলেন।

নুসরাতের গায়ে আগুনে দেওয়া হলে ২ মিনিট পরে তিনিই ফোন করে নোমানকে বলেন- তার বোন গায়ে আগুন দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে।

 

 

8 absar

 

৮ নম্বর আসামী শিক্ষক আবছার উদ্দিন (৩৩) :
আবছার উদ্দিন ঘটনার সময় গেইটে ছিলেন পাহারায়। মামলা তুলে নিতে চাপ দেওয়াও তার দায়িত্ব ছিল।

 

 

9 moni

৯ নম্বর আসামী কামরুন নাহার মনি (১৯) :
কামরুন্নাহার মনি ২ হাজার টাকা নিয়ে দুটি বোরখা ও হাতমোজা কেনেন।

হত্যাকাণ্ডে মনি সরাসরি অংশ নেন। ছাদের ওপর নুসরাতের হাত বাঁধা হলে তাকে শুইয়ে ফেলে বুকের ওপর চেপে ধরেন মনি।

আগুন দেওয়া হলে নিচে নেমে এসে আলিম পরীক্ষায় বসে মনি।

 

 

10 popy

১০ নম্বর আসামী উম্মে সুলতানা ওরফে পপি (১৯) :
অধ্যক্ষ সিরাজের ভাগ্নি উম্মে সুলতানা পপি সেদিন নুসরাতকে ডেকে ছাদে নিয়ে যান।

পরে মামলা তুলে নিতে চাপ দেন। তাতে রাজি না হওয়ায় নুসরাতের ওড়না দিয়ে তার হাত পিছমোড়া করে বেঁধে ফেলেন।

নুসরাতকে ছাদে শুইয়ে চেপে ধরেন পপি। নুসরাতের গায়ে আগুন দেওয়া হয়ে গেলে পপিও নেমে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন।

 

11 ab rahim

 

১১ নম্বর আসামী আব্দুর রহিম শরীফ (২০) :
আব্দুর রহিম শরীফ ঘটনার সময় পাহারার দায়িত্বে ছিলেন। পরে তিনি ঘটনাকে আত্মহত্যার চেষ্টা বলে প্রচার চালান।

 

 

 

12

 

১২ নম্বর আসামী ইফতেখার উদ্দিন রানা (২২) :
ইফতেখার উদ্দিন রানা মাদ্রাসার মূল গেইটে পাশে পাহারায় ছিলেন।

 

 

 

 

13 imarn

 

১৩ নম্বর আসামী ইমরান হোসেন মামুন (২২):
ইমরানও মাদ্রাসার মূল গেইটের পাশে পাহারায় ছিলেন।

 

 

 

 

 

14 ruhul amin১৪ নম্বর আসামী রুহুল আমীন (৫৫) :
স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা রুহুল আমীন শুরু থেকেই এ হত্যা পরিকল্পনায় ছিলেন।

ঘটনার পর পুলিশকে ‘‌ম্যানেজ’ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তিনি।

ঘটনার পর শামীমমের সঙ্গে তার ফোনে কথা হয়। ঘটনাটিকে আত্মহত্যা বলে চালানোর চেষ্টাতেও তার ভূমিকা ছিল।

 

15 shakil

১৫ নম্বর আসামী মহিউদ্দিন শাকিল (২০) :
মহিউদ্দিন শাকিল ঘটনার সময় সাইক্লোন সেন্টারের সিঁড়ির সামনে পাহারায় ছিলেন।

কেউ যেন ওই সময় ছাদে যেতে না পারে, তা নিশ্চিত করা তার দায়িত্ব ছিল।

 

 

 

 

16 shamim

 

১৬ নম্বর আসামী মোহাম্মদ শামীম (২০) :
মোহাম্মদ শামীমওসাইক্লোন সেন্টারের সিঁড়ির সামনে পাহারায় ছিলেন।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

Leave A Reply

Your email address will not be published.