মুখোমুখি রংপুর রিপোর্টাস ক্লাবের দুই গ্রুপ

- Advertisement -

নিজস্ব প্রতিবেদক:
দীর্ঘদিন ধরে পুষে রাখা ক্ষোভ অবেশেষে স্পষ্ট হলো ‘প্রতিশ্রুতিশীল সাংবাদিকদের সংগঠন’ রিপোর্টাস ক্লাব, রংপুরের সদস্যদের। নির্বাচন পরবর্তী দুই পক্ষের অনৈক্য গোপন থাকলেও সম্প্রতি গত দ্বি-বার্ষিক নির্বাচনে বিজয়ী কমিটির অভিষেক ও ১৫তম বর্ষপূর্তি অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে প্রকাশ পেল তা। সংগঠন প্রতিষ্ঠার ১৫ বছর পরে এসে দুই গ্রুপের মধ্যকার বিরোধ নেতৃত্ব নাকি অন্য কোনো বিষয়কে কেন্দ্র করে তা স্পষ্ট নয়।

জানা যায়, বুধবার রংপুর টাউন হলে (২৯ জানুয়ারি ২০২০ ) গত ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৯, শনিবার অনুষ্ঠিত দ্বি-বার্ষিক নির্বাচনে বিজয়ী নতুন কমিটির সদস্যদের অভিষেক ও ১৫তম বর্ষপূর্তি অনুষ্ঠান হওয়ার কথা ছিল। এজন্য তারা প্রচার প্রচারণা ও সার্বিক প্রস্তুতি গ্রহণ করে। কিন্তু বাধ সাধে ওই নির্বাচনে পরাজিত প্যানেলের সদস্যরা। তারাও একই স্থানে ‘রংপুর বিভাগের উন্নয়ন ও সম্ভাবনা’ শীর্ষক একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। এতে উত্তপ্ত হয় পরিবেশ।

প্রসঙ্গত সর্বশেষ নির্বাচনে (সেপ্টেম্বর) প্রথম দুই প্যানেলে নির্বাচনে অংশ নেয়।

সূত্র বলছে- রিপোর্টার্স ক্লাব, রংপুরের ১৫তম বর্ষপূর্তি ও নতুন কমিটির অভিষেক অনুষ্ঠিনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা ছিল প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মোঃ জাকির হোসেন এমপির। আর প্রধান আলোচক হিসেবে থাকার কথা ছিল রংপুর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ও মহানগর জাতীয় পার্টির সভাপতি মোঃ মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফার।

সংগঠনটির যে অংশটি সাংবাদিক সংহতি সমাবেশের ডাক দিয়েছিল তারা মঙ্গলবার বিকেল বেলা টাউন হলের সম্মুখে তাদের অনুষ্ঠান প্রস্তুতি গ্রহণ করে। এই নিয়ে সন্ধ্যার পর থেকে দু’টি পক্ষের মধ্যে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় প্রশাসন বিষয়টি নিস্পত্তির জন্য পক্ষ দু’টিকে মৌখিকভাবে অনুরোধ জানায়। এরপরও তারা নিজেদের পক্ষে অনড় থাকায় রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার তার অফিস কক্ষে দুই গ্রুপের নেতৃবৃন্দকে ডেকে পাঠান। সেখানে রুদ্ধ দ্বার বৈঠকে উভয় পক্ষের মাঝে সমঝোতার ভিত্তিতে নিজ নিজ অনুষ্ঠান কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য অনুরোধ জানান। কিন্তু অভিষেক আয়োজনকারী অংশটি নিজেদের ঘোষিত অনুষ্ঠান নিয়ে অনড় থাকেন এবং তারা অনুষ্ঠান সফল করার জন্য পুলিশ প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করেন। অপরপক্ষ তাদের অনুষ্ঠান কর্মসূচি নিয়ে অনড় অবস্থানে থেকে পুলিশের সহায়তা কামনা করে। ফলে পুলিশ প্রশাসন এনিয়ে চরম বিব্রতকর অবস্থায় পরে।

উদ্ভূত পরিস্থিতির সমাধানে মঙ্গলবার রাতে প্রশাসন দুই অংশের সাথে জরুরি বৈঠক করলেও কোনো সামাধান হয়নি। একারণে প্রশাসনও চরম ক্ষুদ্ধ প্রতিক্রয়া ব্যক্ত করে। পরে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনারের দপ্তর থেকে দুই পক্ষের প্রতি কড়া নির্দেশনা জারি করে জানিয়ে দেয়া হয়। বিবাদমান সমস্যা সামাধান না হওয়া পর্যন্ত কোন সমাবেশ করতে দেয়া হবে না বলে জানানো হয়।

জানতে চাইলে রংপুর জেলা প্রশাসক আসিব আহসান বলেন, ‘সংগঠনটির পরিস্থিতি জটিল হওয়ায় আমরা অনুষ্ঠানে যাইনি।

রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিবি) আলতাফ হোসেন বলেন, রিপোর্টার্স ক্লাবের দুই পক্ষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করায় আমরা অনুষ্ঠান বন্ধ করে দিয়েছি।

প্রসঙ্গত গত ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৯ দ্বি-বার্ষিক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ওইদিন রাতে প্রকাশিত ফল অনুযায়ী আব্দুল হালিম আনছারী-বায়েজীদ-ফারুক প্যানেলের আব্দুল হালিম আনছারী (ইনকিলাব) সভাপতি, অধ্যাপক মোজাফ্ফর হোসেন (সাপ্তাহিক তুফান) সিনিয়র সহ-সভাপতি, মমিনুল ইসলাম রিপন (পরিবেশ) সহ-সভাপতি, শাহ বায়েজীদ আহম্মেদ (একাত্তর টিভি) সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন।

এছাড়াও নির্বাচিত হন- যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ফরহাদুজ্জামান ফারুক (বার্তা২৪/দাবানল), কোষাধ্যক্ষ এসএম ইকবাল সুমন (দাবানল), দপ্তর সম্পাদক এনামুল হক (প্রথম খবর), প্রচার সম্পাদক হারুন-অর-রশিদ হারুন (বায়ান্নর আলো), ক্রীড়া সম্পাদক মিজানুর রহমান মিজান (আমার সংবাদ), সাহিত্য-সাংস্কৃতিক সম্পাদক আফরোজা বেগম এবং কার্যকরি সদস্য পদে মিজানুর রহমান লুলু (যুগের আলো), আমিরুল ইসলাম (কলকাতা টিভি), আজম পারভেজ (গাজী টিভি) শরিফুল ইসলাম সম্রাট (প্রথম খবর), ইমরোজ ইমু (যুগের আলো)।

জানা যায়, সর্বশেষ ওই নির্বচনে প্রথম দুই প্যানেলে নির্বাচনে অংশ নেয়। আব্দুল হালিম আনছারী-বায়েজীদ-ফারুক প্যানেল এবং মোজাফ্ফর-ওসমানী-মানিক প্যানেল। নির্বাচনে সহ-সভাপতি পদে মমিনুল ইসলাম রিপন (পরিবেশ) বাদে সবাই আব্দুল হালিম আনছারী-বায়েজীদ-ফারুক প্যানেল থেকে নির্বাচিত হয়।

নির্বচানে পরাজিত নেতা ও সদস্যরা হলেন- সভাপতি পদে মোজাফফর হোসেন (দৈনিক আমাদের বাংলা), সিনিয়র সহ-সভাপতি পদে চঞ্চল মাহমুদ (ইসলামিক টিভি), সাধারণ সম্পাদক পদে বাদশাহ্ ওসমানী (এশিয়ান টিভি), যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদে রেজাউল করিম মানিক (নিউজ২৪), কোষাধ্যক্ষ পদে শরিফুল ইসলাম সুমন (দৈনিক লাখোকণ্ঠ), দপ্তর সম্পাদক পদে হারুন উর রশিদ সোহেল (দৈনিক আমাদের প্রতিদিন), প্রচার সম্পাদক পদে সাইফুল ইসলাম মুকুল (জিটিভি), ক্রীড়া সম্পাদক পদে এসএম রাফাত হোসেন বাধন (বাংলাটিভি), সাহিত্য সাংস্কৃতিক সম্পাদক পদে নুর হাসান চান (প্রথমখবর/খবরপত্র)।

ওই বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর নব-নির্বাচিত কমিটির সদস্যদের দ্বায়িত্ব-ভার অর্পণ ও শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। ওইদিন নব-নির্বাচিত নেতা ও সদস্যদের শপথ বাক্য পাঠ করান প্রবীণ সাংবাদিক দৈনিক দাবানল পত্রিকার সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা খন্দকার গোলাম মোস্তফা বাটুল।

Print Friendly, PDF & Email

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

Leave A Reply

Your email address will not be published.