বেড়ীবাঁধ সংস্কার না করায় হাজার হাজার একর ফসলের ক্ষতির আশঙ্কা

- Advertisement -

রৌমারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি:
রৌমারী উপজেলার দাঁতভাঙ্গা ইউনিয়নের ছাটকড়াইবাড়ী হতে ঝগড়ারচর ডিসি রাস্তা পর্যন্ত, (পাবসস) ক্ষুদ্র পানি সম্পদের ৬ কিলো ২শ মিটার বেড়ীবাঁধটির বেহাল দশা। এটি মেরামত ও সংস্কার-মেরামত না করলে প্রতিবছর হাজার হাজার একর জমির ফসল বিনষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

সরেজমিনে জানা যায়- ক্ষুদ্র পানি সম্পদের বেড়ীবাঁধটি (পাবসস) কমিটির ৪৫৭ জন সদস্য ও ৬শত উপকার ভোগীর মাধ্যমে ২০০১ সালে কাজ শুর করা হয়। যার সমাপ্তি হয় ২০০৪ সালে। বেড়ী বাঁধটি নির্মাণের ফলে বাঁধের পশ্চিম পাশ্বে প্রায় ১০ হাজার একর ফসলী জমি বন্যার ক্ষতি থেকে রক্ষা পেয়েছিল।

এদিকে একাধারে ১০ বছর ওই বাঁধ মেরামতে কোন প্রকার বরাদ্দ না দেওয়ায় বাঁধটি বৃষ্টি-বন্যায় খানাখন্দে ছিন্ন ভিন্ন হয়ে পড়ে। এদিকে নামকেওয়াস্তে ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ও ২০১৬-১৭ অর্থবছরে বাঁধ সংস্কার করা হলেও তা যতেষ্ঠ ছিল না।

যার ফলে ২০১৯ সালের ভয়াবহ বন্যায় ভারতীয় পাহাঢ়ী ঢলের তীব্র স্রোতের তোড়ে বাঁধটি জেসমিনের বাড়ির কাছে ১শ মিটার, হাশেমের বাড়ির কাছে ৩০ মিটার, মোতালিবের বাড়ির নিকট, আব্দুল হাকিম, মতিয়ার ও সাখাওয়াতের বাড়ির পার্শ্বেসহ অসংখ্য খানা খন্দের সৃষ্টি হয়। এমনকি বাঁধটির প্রায় ২শ মিটার ভেঙ্গে জিনজিরাম নদে পরিণত হয়।

কিন্ত আশায় গুড়ে বালি, কৃষকের হাড়ভাঙ্গা পরিশ্রম, মাথার ঘাম পায়ে ফেলানো কষ্টার্জিত সোনার ফসল সর্বনাশা পাহাঢ়ী ঢলের তোড়ে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। রাস্তাটি নির্মাণের শুরুতে ওই সীমান্ত এলাকার মানুষ রাস্তা পথে চলাচলে স্বাচ্ছন্দ বোধ করত। সীমান্তবর্তি গ্রামের ছেলে-মেয়েরা ওই পথে সহজেই স্কুল কলেজে যাতায়াত করত। বাঁধটি না থাকায় ওই অঞ্চলের কৃষকের মাঝে হতাশা বিরাজ করছে। বাঁধটিতে লাখ লাখ টাকা ব্যায়ে একটি স্লুইজ গেট ও দুটি রেগুলেটর থাকলেও বাঁধ ভাঙ্গা থাকার কারণে আসছেনা কোন কাজে।

এ বিষয়ে ঝগড়ারচর (পাবসস) কমিটির সভাপতি জোবাইদুল ইসলাম, সম্পাদক মিজানুর রহমান, ওই ওর্য়াডে ইউপি সদস্য শাহাজাহান, ইউপি সদস্য আবুল হাশেম বলেন, বেড়ীবাঁধের ভিতরে প্রায় ১০ হাজার একর আবাদী জমি রয়েছে। যাহা ভারতীয় পাহাঢ়ী ঢলের কড়াল গ্রাসের মুখে। বাঁধটি ভেঙ্গে কয়েক জায়গায় বড়বড় গভির গর্তের সৃষ্টি হলে এ অঞ্চলের কৃষক হতাশাময় জীবন যাপন করছে। তবে বাঁধটি বর্ষা মৌসুমের আগে মেরামত না করলে হাজার হাজার টন ফসলের ক্ষতি সাধিত হবে।

এ ব্যাপারে রৌমারী উপজেলা প্রকৌশলী মোঃ আমিনুল ইসলাম বলেন, ঝগড়ারচর বেড়ীবাঁধটি ইতো মধ্যে আমার একটি টিম সরেজমিন রিপোট সংগ্রহ করেছে। বাঁধটির অবস্থা বড়ই নাজুক। তবে বাঁধটি পুণ নির্মাণ বা মেরামতের জন্য কুড়িগ্রাম এলজিইডি প্রকৌশলী বরাবর আবেদন পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। রৌমারীতে ক্ষুদ্র পানি সম্পদের বেশ কয়েকটি বেড়ি বাঁধ রয়েছে। এই বাঁধটি গুরুত্ব পুর্ণ হওয়ায় বরাদ্দের জন্য উর্ধতন কতৃপক্ষের নিকট আবেদন পাঠানো হবে।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

Leave A Reply

Your email address will not be published.