নাসিরনগরে মসজিদের ইমামের নেতৃত্বে হামলা, নারীসহ আহত ১০

- Advertisement -

নিউজ ডেস্ক: ব্রাহ্মবাড়িয়ার নাসিরনগর হিযবুত তাওহিদের সদস্যদের উপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (২২ মার্চ) সন্ধায় ব্রাহ্মবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলার কলেজ মোড় এলাকায় হিযবুত তাওহিদের সদস্য আলাহাজ্ব ইদ্রিস আলীর (৫২) বাড়িতে ঢুকে দেশীয় ধাঁরালো অস্ত্রশস্ত্রে নিয়ে হামলা চালায় স্থাণীয় ধর্মান্ধ গোষ্ঠী। তাদেরকে নেতেৃত্ব দেয় উপজেলা কমপ্লেক্স মসজিদের খতিব মুখলেসুর রহমান (৪৩)। হামলাকারীরা মসজিদ থেকে সংঘবন্ধ হয়ে এ হামলার ঘটনা ঘটানো হয় বলে ঘটনাস্থল সূত্রে জানা যাচ্ছে।

এ ঘটনায় ইদ্রিস আলী ও তার স্ত্রীসহ ১০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে ঢাকা মেডিকেল কলেজে পাঠানো হয়েছে। আহতদের মধ্যে ৩ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

প্রত্যাক্ষদর্শীরা জানায়, আসরের নামজের পরপরই হসপিটাল জামে মসজিদ ও উপজেলা কমপ্লেক্স মসজিদে সংঘবদ্ধ হতে থাকে উগ্রবাদীরা এবং পরবর্তীতে মাগরেবের নামাজের পর পূর্ব থেকে সংগ্রহকৃত দেশীয় ধাঁরালো অস্ত্র নিয়ে রাতের অন্ধকারে হামলা চালায়। হামলাকারীরা ইদ্রিস আলীর বাড়িতে দলবেঁধে চাপাতি, দা, কিরিজসহ অন্যান্য দেশীয় অস্ত্র দিয়ে হামলার পর লুটপাট চালায়।

জানা যাচ্ছে- ঘটনার পুরো ইন্ধনদাতা ও পুরো ঘটনা সংঘটন করে উপজেলা কমপ্লেক্স মসজিদের খতিব মুখলেসুর রহমান (৪৩)। এছাড়াও স্থানীয় বাসিন্দা আনোয়ার হোসেন (৩৮), আব্দুল সাত্তার (৪০), আবুল খায়ের (৪২), গিয়াস উদ্দিন (৪৫), সৈয়দ শামসু উদ্দিন (৫০), আব্দুল জলিল (৪০), হাসান মিয়া (৩৫), শফিকুল ইসলাম (৪৫) ও লুৎফর রহমান হামলায় অংশ নেয়।

হিযবুত তাওহিদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, “গত কয়েকদিন থেকেই স্থানীয় ধর্মব্যবসায়ী সন্ত্রাসী গোষ্ঠীরা হুমকি দিয়ে আসছিল। থানায় গিয়েও তারা হুমকি দিয়েছে। ফলশ্রুতিতে আমরা ডিসি মহোদয়ের নিকট স্মারকলিপি প্রদানসহ স্থানীয় সংসদ সদস্য ও পুলিশ প্রশাসনকে বিষয়গুলো অবগত করেছি। কিন্তু তাতেও কোনো কাজ না হওয়ায় বাধ্য হয়ে নিরাপত্তা চেয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া নির্বাহী আদালতে ফৌজদারী কার্যবিধি আইনের ১০৭/১১৭ ধারা মতে পিটিশন দাখিল করি। তবুও আমাদের উপর হামলা করা হয়েছে।”

“একটি নির্দিষ্ট উগ্রবাদী গোষ্ঠীর এ দৌরাত্ম্য ও দুঃসাহস অবশ্যই স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সক্ষমতাকে কঠিনভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করে।” এদিকে এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছে হিযবুত তাওহিদ।

শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত হামলাকারীদের এখনও গ্রেফতার করা হয়নি। ওই এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

অপরদিকে এঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে জানান হেযবুত তওহীদের আইনী সহায়তা বিভাগের প্রধান আমিনুল ইসলাম।

Print Friendly, PDF & Email

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

Leave A Reply

Your email address will not be published.