নবান্নের আগমনী বার্তা: কাউনিয়ায় ডালি, কুলা ও চাইলন কেনার ধূম

- Advertisement -

নিজস্ব প্রতিবেদক:
চলছে কার্তিকের শেষ সপ্তাহ, কয়েকদিন পরেই অগ্রহায়ণ, এবারে ধানের ফলনো ভালো হয়েছে, তাই কৃষকের ঘরে ঘরে বইছে নবান্নের আগমন বার্তা।

রংপুরের কাউনিয়ার বিভিন্ন হাট-বাজারে চলছে ডালি-কুলা আর চাইলন (চালা) কেনার ধূম। এ উপজেলার ৯৫ ভাগ মানুষ কৃষিজীবী তাই যে যেভাবে পারছে সামনের ধান কাটা-মাড়াইয়ের প্রস্তুতি নিতে হাট-বাজারে ভীর করছেন গ্রাম বাংলার কৃষাণীদের পছন্দের ডালি-কুলা ও চাইলন কিনতে।

উপজেলার তকিপল বাজারে কুলা নিতে আসা পূর্ব চান্দঘাট গ্রামের নুরুজ্জামান জানান, ‘সামনেই হামার পর্ব (উৎসব) তাই একটু আগে ভাগেই ধান কাটা-মাড়াইয়ের জিনিষপত্র কিনে রাখলাম। কারন হিসেবে তিনি বলেন কয়দিন পর দাম বাড়বে।

একই অভিব্যক্তি চর পাঞ্জরভাঙ্গা এলাকার আনোয়ার হোসেন জানায়, ‘বাড়ীর বউ-ঝি রা কাটামাড়ির কাম করবে, ওদের খুশি করতেই আগাম কিনছি, তবে খুব বেশী আগামও হয় নাই আর ৮/১০ দিন বাদে ধানের গোড়াৎ কাইচাও (কাসতে) নাগামো’।

অপরদিকে স্বাব্দী এলাকার কৃষক আজিজুল ইসলাম জানান, ‘গত বোরো মৌসুমে সরকার ২৬ টাকা কেজি দরে ধান কিনলেও হামার গুলার ধান বেচা নাগছে ১৪ /১৫ টাকা কেজি কিন্তু গত কয়দিন ধরি ধানের দাম ভালো তাই হামার মনোৎ আনন্দ হইছে’।

তিনি জানান, ‘বাজারে এলা ধানের মন ৭’শ থেকে ৭’শ ৫০ টাকা। এইদ্যান দাম থাকলে এবার আর ধানোৎ হামার নস (লস) হবার নয়’।

এদিকে ডালি-কুলা ও চাইলন বিক্রেতা আব্দুর রশিদ জানান, বাঁশের দাম কম তাই এবারে বাঁশের তৈরী কৃষি পণ্যেরও দাম কম কিন্তু চাহিদা বেশী। তবে কারিগর সংকটের ফলে কৃষি পণ্য বাজারের চাহিদা মত দিতে পারছেনা বলে জানান তিনি ।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ সাইফুল আলম জানান, উপজেলায় চলতি মৌসুমে ১১ হাজার ৫’শ হেক্টর জমিতে আমন ধান চাষ করা হয়েছে। এ থেকে ফলনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৪৮ হাজার ৮’শ ৭৫ মেট্রিক টন। আবহাওয়া অনুকুল থাকায় এবারে আমন ধানের ভালো ফলন হয়েছে, বাজারে ধানের চাহিদাও ভালো তাই এবারে কৃষকরা ধানে লাভবান হবেন।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

Leave A Reply

Your email address will not be published.