কৃষিবিদ সাইফুল আলমের প্রচেষ্টায় কাউনিয়ার ধু-ধু বালুচর এখন আবাদের আওতায়

- Advertisement -

 

মিজানুর রহমান:
রংপুরের কাউনিয়া উপজেলা পরিষদের প্রণোদনা ও উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ সাইফুল আলম এর সদুরপ্রসারী পরিকল্পনা এবং ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় বদলে গেছে চরাঞ্চলের কৃষি অর্থনীতির চিত্র। বিগত ৩ বছরে অনাবাদী ৫’শ একর ধু-ধু বালুচরে এখন সবুজের বিপ্লব, দেখাচ্ছে সোনালী স্বপ্ন। তিস্তার জলরাশির বুকচিরে জেগে ওঠা বালি যেন সাদা সোনায় পরিনত হয়েছে। চাষ হচ্ছে আলু, মিষ্টি কুমড়া, মরিচ, পেঁয়াজ, রসুন, স্কোয়াস, ওলকপি, গম, ভুট্টাসহ নানা ফসল। জোয়ারে দেখা না গেলেও ভাটায় তিস্তার এ বালুচরের মনোমুগ্ধ সবুজের সমারোহে প্রকৃতি প্রেমিকে কাছে টানে।

বালিতে প্রযুক্তিগত কুমড়া জাতীয় ফসলের বিস্তারে পুরোচর সবুজ চাদরে ঢেকে গেছে। পুরোচরেই নিরাপদ কুমড়া ফসল উৎপাদনে শোভা পাচ্ছে সেক্স ফেরোমন ফাঁদ ও ইয়োলো স্টিক ট্রাপ। চর তালুক সাহাবাজের কৃষক রেজাউল ইসলাম স্বাধীন তাদের সফলতার গল্প শোনাতে গিয়ে বলেন, উপজেলা কৃষি স্যার তাদের চরে ৩টি কৃষক দল গঠন করে তিস্তার বালুতে কীভাবে বিষমুক্ত আবাদ করা যায় সেজন্য প্রশিক্ষন, সার, বীজ, সেচের টাকাসহ পরামর্শ প্রদান করেন। আমি প্রায় ১‘শ শতক বালুচরে মিষ্টি কুমড়া ও স্কোয়াশ চাষ করেছি। গাছের অবস্থাও খুবই ভাল। এখন পর্যন্ত কোন রোগবালাই বা পোকার আক্রমণ হয়নি। হরিচরণশর্মা চরের শফিকুল বলেন, প্রথমে বিশ্বাস করতে পারিনি যে বালিতে কী করে মিষ্টি কুমড়া, স্কোয়াশ, ওল কপি হবে কিন্তু এমন গাছের চেহারা ও ফলনের আভাস দেখে সকলের মধ্যে আনন্দ ফুটে উঠেছে।

কাউনিয়ার তিস্তা নদী বেষ্টিত চরাঞ্চলের মানুষের বদলে দেয়া জীবন-জীবিকার মূল কারিগর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ সাইফুল আলম জানান, আমি শুধু সবাইকে অনুপ্রেরণা ও সহযোগিতা করেছি। এ স্বপ্নীল পরিকল্পনা কীভাবে গ্রহন করলেন? তিনি বলেন, ২০১৮ সালে এ উপজেলায় যোগদান করার পর জেগে ওঠা আবাদ অযোগ্য ধু-ধু বালুচরে কীভাবে ফসল আবাদের আওতায় আনা যায় তা নিয়ে পরিকল্পনা করি। তিনি জানান, কাউনিয়ার ৩০টি চরে জমির পরিমান ২ হাজার ৪’শ একর এরমধ্যে স্থায়ী চরে জমির পরিমান ১ হাজার ৯’শ ৫০ একর। সেখানে সব ধরনের ফসল উৎপাদন হয় কিন্তু অস্থায়ী বালুচরের পরিমান প্রায় ৪’শ ৬০ একর সেখানে কোন ফসল হতো না। আমার মূল লক্ষ্য ছিলো এ অনাবাদী বালিচরকে আবাদের আওতায় নিয়ে আসা।

সে ভাবনা থেকে এ উদ্যোগের কথা উপজেলা পরিষদে জানালে তারা অর্থের সংস্থান করে। গত ৩ বছর ধরে উপজেলা পরিষদ চরের আবাদ বৃদ্ধিতে কৃষকদের প্রণোদনা সহয়তা দিয়ে যাচ্ছেন। এই অর্থের মাধ্যমে চর ও চাষী নির্বাচন করে কয়েকটি কৃষক গ্রুপকে মিষ্টি কুমড়া, মরিচ, পেঁয়াজ, রসুন, স্কোয়াস, চাষ করানো হয়। এ জন্য প্রয়োজনীয় কৃষি উপকরণ পিপিপি এর ভিত্তিতে সরবরাহ করা হয়। এতে কোন ধরনের কীটনাশক ব্যবহার না করতে প্রশিক্ষণ, জৈব সার, সেক্স ফেরোমন ফাঁদ, ইয়োলো স্টিক ফাঁদ কৃষকদের মাঝে সরবরাহ করি। চলতি মৌসুমে প্রায় ৫’শ একর বালুচরে যে মিষ্টি কুমড়া, স্কোয়াশ উৎপাদিত হবে তা সম্পূর্ন বিষমুক্ত, এর বাজার মূল্যও বেশি হবে। এছাড়া এ সব কুমড়া যাতে বিদেশে রপ্তানী করা যায় সে জন্য কৃষি বিভাগ কাজ করে যাচ্ছে।

Print Friendly, PDF & Email

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

Leave A Reply

Your email address will not be published.