“আমাকে আবার মাদ্রাসায় পাঠালে ছাদ থেকে লাফ দিয়ে মরে যাব”

- Advertisement -

নিউজ ডেস্ক: ছেলে ভয়ে মাদ্রাসা থেকে পালিয়ে আশ্রয় নিয়েছে নানির বাসায়। খবর পেয়ে সেখান যান বাবা-মা। এসময় ছেলে তাদের বলে, ‘আমি আর মাদ্রাসায় যাবো না’। বাবা কারণ জানতে চাইলে সে বলে, ‘হুজুররা আমার সঙ্গে খারাপ কাজ করে। আমাকে যদি আবার মাদ্রাসায় পাঠাও তাহলে আমি ছাদ থেকে লাফ দিয়ে মরে যাব’।

কথাগুলো বলছিলেন মাদ্রাসায় হুজুরের বলাৎকারের শিকার এক ছাত্রের অভিভাবক। পরে বিষয়টি তিনি থানায় জানালে অভিযুক্ত দুই শিক্ষককে আটক করে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার ঘটনাটি ঘটে টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার পৌরসভার শ্যামলী (গরুর হাট) এলাকার আল এহসান নূরানী ও হেফজ মাদ্রাসায়। এ ঘটনায় ওই ছাত্রের অভিভাবক বাদী হয়ে থানায় মামলা করেছেন।

মামলার বিবরণে জানা যায়, ঘাটাইল পৌর এলাকার আল এহসান নূরানী ও হেফজ মাদ্রাসার দুই শিক্ষার্থীকে সকালে বলাৎকার করেন দুই হুজুর। ছেলের মুখে ঘটনা শুনে পুলিশে খবর দেন এক অভিভাবক।

পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ওই মাদ্রাসার শিক্ষক গোপালপুর উপজেলার শরিকপুর গ্রামের মো. হেকমত আলীর ছেলে রমিজুল ইসলাম (২২) ও ভূঞাপুর উপজেলার নিকরাইল গ্রামের তারা মিয়ার ছেলে খায়রুল ইসলামকে (২২) গ্রেপ্তার করে। পরে তাদের আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়।

এলাকাবাসী জানায়, মাদ্রসাটি সিসি ক্যামেরা দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। অভিভাবকের অভিযোগের ভিত্তিতে সিসি ক্যামেরার ফুটেজে প্রাথমিকভাবে ঘটনার সত্যতা পাওয়া যায়। অভিভাবকদের বসার কক্ষে নিয়ে তারা ওই কাজ করেছেন। ওই কক্ষটি সিসির আওতার বাইরে।

ঘাটাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাকসুদুল আলম বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে ছাত্রদের উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা হয়েছে। অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।

Print Friendly, PDF & Email

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

Leave A Reply

Your email address will not be published.